Content

সেশান ১. বিজনেস আইডিয়া কিভাবে পাবেন

১। আপনার চারপাশে অসংখ্য ঘটনা ঘটছে, চোখ রাখুন
২। যে কোন সমস্যা থেকে আইডিয়া – কেউ দেখছে সমস্যা আর আপনি খুঁজবেন সেখানে “সম্ভাবনা”
৩। আপনার কোন সখ থেকে বিজনেস আইডিয়া
৪। আপনার এলাকায় সবচেয়ে বেশী উৎপাদিত হয় কোন পণ্যটি? সেটাকে নিয়ে প্ল্যান করা।
৫। অন্যরা ব্যাবহার বা ভোগ করছে অথচ আপনার এলাকায় এখনো শুরু হয়নি সেটা কোন পণ্য বা সেবা?
৬। বাজারে আছে কিন্তু আপনারটা ব্যতিক্রম ও সহজ লভ্য করে আইডিয়া বের করা।
৭। দেশী (ও পারলে বিদেশী) মেলায় অংশ গ্রহণ করুন।

আপনার মধ্যে ভাবনা শুরু হবে…

সেশান ২. বিজনেস আইডিয়া কিভাবে পাবেন ২

বাংলাদেশে ১৭ কোটি মানুষ – বিশাল বাজার
আপনি যদি একটু চিন্তা করেন, ১৭ কোটি থেকে মাত্র ৫০,০০০ (০.০৩%) বা ১ লাখ মানুষকে কোন কিছুঃ

১। খাওয়াবেন
২। পরাবেন
৩। কোন কিছু ব্যাবহার করাবেন

পেয়ে যাবেন আপনার স্বপ্নের আইডিয়া।

যেটা হবে আপনার ভালবাসা ও ভালোলাগার কাজ, যা করতে আপনি কখনই ক্লান্ত হবেন না।

সেশান ৩. নিজের জীবনে একটা ইমেজ তৈরি করুন, আজ থেকে -

১। আপনাকে বিশ্বাস করা যায়, আপনি খুবই বিশ্বস্ত
২। আপনি একজন সৎ মানুষ, আপনি কাউকে ঠকাতে পারেন না
৩। আপনি একজন ভালো মানুষ
৪। আপনি যে কোন মূল্যে আপনার দেয়া কথা রাখেন
৫। আপনি পরিশ্রমী ও ব্যাপক শেখার আগ্রহ আছে আপনার,
৬। আপনার নেটওয়ার্ক খুব ভাল যা আপনি ম্যানটেইন করেন এবং
৭। আপনার কাছে ভালো আইডিয়া আছে

এই গুন গুলু আপনাকে নিশ্চিতভাবে মুল্ধন যোগাতে সাহায্য করবে – আমাকে করেছে।

শুধু ভালো আইডিয়া থাকলেই আপনার প্রোজেক্টে কেউ বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসবে না, সাথে উপরের ৬ টা কোয়ালিটিও আপনার লাগবে।

আপনাকেই খুঁজছে – কোন এক বিনিয়োগকারী আপনার স্বপ্নের প্রোজেক্টে বিনিয়োগ করার জন্য।

সেশান ৪. ফান্ডিং

বাংলাদেশে স্টার্টআপে এখন সীমিত আকরে ফান্ডিং হচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু ফান্ডিং করা হয়। এ জন্য বেশ কিছু স্ক্রিনিং পর্যায় পার হতে হয়। কয়েকটি লিংকে গিয়ে জেনে আসতে পারেন এসব ফান্ডিং সম্পর্কে:

ইনোভেশন সার্ভিস ফান্ড,
ইনোভেশন ফান্ড
আইসিটি ডিভিশন ফান্ড
স্টার্টআপ বাংলাদেশ
টেলকো ফান্ডিং

উদ্ভাবনী আইডিয়া বা প্রকল্পগুলোকে সহযোগিতা করতে বা নিজেদের কাজে লাগাতে কিছু সাহায্য করে টেলকোগুলো। কয়েকটি প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে নিজের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে পারেন।

ফান্ডিং গুলুর নাম লিখে সার্চ দিলেই লিঙ্ক গুলু পাবেন। দেখুন ও পড়ুন, চোখ খুলে যাবে। চেষ্টা করলে ও লেগে থাকলে আপনারা কেউ কেউ এই ফান্ড পেয়ে যেতে পারেন।

আমি চাই আমাদের গ্রুপের ছেলে মেয়েরা বাংলাদেশের সকল প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করুক। আমি পাশে আছি আপনাদের তৈরি করার জন্য।

সেশান ৫. ফান্ডের জন্য যেভাবে এগুতে হবে -

১। একটা প্রোজেক্ট প্রপোজাল বা বিজনেস প্ল্যান বানাতে হবে ( এটা কিভাবে তৈরি করতে হবে তা আমি ক’দিনের মধ্যেই শিখাবো)।

২। এই প্রোজেক্ট প্রপোজাল আপনার পরিবার, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, বন্ধু বান্ধবদের বন্ধু বান্ধব, ও আপনার এতদিনের নেটওয়ার্ক – যাকে আপনার কাজে লাগবে তাদের কাছে আপনার আইডিয়া সেল করতে হবে ফান্ডের জন্য।

৩। আপনি যেহেতু সৎ ও আপনাকে বিশ্বাস করা যায়, আপনি পরিশ্রমী, আপনি কমিটমেন্ট যে কোন মূল্যে রাখেন এবং আপনার বিজনেস আইডিয়া ভালো, আপনাকে বিজনেস করার জন্য তারা টাকা দিবে পার্টনার হিসাবে।

৪। ছাত্র জীবন থেকেই টিউশানি করে বা পার্ট টাইম কাজ করে বিজনেসের প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহ করতে পারেন।

৫। যারা চাকরী করছেন তারা মাসে মাসে কিছু সেভিংস করে এবং ৫.০০ টার পর অন্যকোন পার্ট টাইম কাজ করে মুল্ধন জোগাড় করতে পারেন।

শুরু করুন।

সেশান ৬. আপনার স্বপ্ন পূরণে

ছোট ছোট সম্পর্ক গুলুও একসময় জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে, যা হয়তো আপনি কোনদিন কল্পনা ও করেননি। তার জন্য প্রয়োজন সততা ও লেগে থাকা, এটা শুধু অর্থনৈতিক সততা নয়, সম্পর্কের সততা ও কমিটমেন্ট।

আজকাল বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক সেখানেও স্বার্থ খোঁজে, স্বার্থ শেষ হলে কেটে পড়ে, প্রয়োজন ও স্বার্থ ছাড়া কেউ কারো সাথে নুনতম সম্পর্কও করে না – এটা ভুল পুরাটাই ভুল। স্বার্থের কোন সম্পর্ক বেশী দিন টিকে না।

আমার জীবনে অনেক শত মানুষের সাথে ভালো পরিচয় ও সম্পর্ক আছে, যার সাথে স্বার্থের কোন সম্পর্ক নেই – হ্যাঁ একটা স্বার্থ আছে, তা হল ভালোলাগা।

কোন কোন সম্পর্ক আপনাকে হয়তো নগদ কিছু দিবে না কিন্তু কোন একটা সময় এমন একটা সুযোগ সামনে নিয়ে আসবে যেটার জন্য নিজের সততার সম্পর্ক ছাড়া আর কিছুই করেননি বা চাননি।

একটু ভাবুন, আপনি কাউকে কোন কাজ দিবেন বা চাকরীর জন্য রেফার করবেন বা কাউকে চাকরী দিবেন বা কাউকে বিজনেস পার্টনার করবেন এমনকি বিয়ে দিবেন/করবেন – আপনি কিন্তু আপনার পরিচিতদের মধ্যে সেই মানুষটাকেই খুঁজবেন যে সৎ, যার ব্যবহার ভালো, যে স্মার্ট ও যার কমিটমেন্টে কোন ভেজাল পান নাই।

এটা কিন্তু একটা বিরাট যোগ্যতা – এটাকে ধারণ করুন আজীবন।
আপনার স্বপ্ন পূরণে ও এগিয়ে যাবার প্রতিটি ধাপে এই সম্পর্কগুলু কাজে লাগবে।

সেশান ৭. "নিজের বলার মত একটা গল্প" আপনাদের পরিবার ও আপনাদের সম্পদ।

ইনশাল্লাহ আর ৪৫ দিন পর এই গ্রুপ হবে আপনাদের বিজনেস হাব। আপনাদের বিশাল বিজনেস নেটওয়ার্ক তৈরি হবে এই গ্রুপের মাধ্যমে।

“নিজের বলার মত একটা গল্প” আপনাদের পরিবার ও আপনাদের সম্পদ।

আপনারাই প্রত্যেকে প্রত্যেকের ক্রেতা ও বিক্রেতা হতে পারবেন। আপনাদের জন্য গ্রুপটা আমি ওপেন করে দিবো। তবে তার আগে আমরা সবাই শিখি যতটা পারি এবং বাংলাদেশে গর্ব করার মত একটা টীম তৈরি করি। আমাদের সবাইকে অনেক বেশী পজিটিভ ও অবশ্যই আমাদের ভালমানুষটাকে ধরে রাখতে হবে।

এটাই হবে আমার শেষ ব্যাচ। এই গ্রপের সবাইকে নিয়ে আমি নার্সিং করবো যতদিন প্রয়োজন। আপনারা একদিন অনেক বড় মানুষ হবেন, ভালো মানুষ হবেন, হৃদয়বান মানুষ হবেন এবং সফল মানুষ হবেন, পরিবারের জন্য ও সমাজের জন্য অল্প হলেও ভুমিকা রাখবেন আর কোন এক সময় আমার কথা একটুখানি মনে করবেন – এটাই আমার প্রাপ্তি। আর কিছু চাই না।

বাংলাদেশ আপনাদের নিয়ে গর্ব করবে।

সেশান ৮. প্রত্যেক মানুষের জীবনে সাকসেসের পিছনে একটা টার্ননিং পয়েন্ট থাকে, একটা ছোট গল্প থাকে।

প্রত্যেক মানুষের জীবনে সাকসেসের পিছনে একটা টার্ননিং পয়েন্ট থাকে, একটা ছোট গল্প থাকে।

আমার জীবনেও একসময় অনেকেই মনে করতো আমাকে দিয়ে কিছু হবে না! অনেক কষ্ট পেতাম, নিজেকে আয়নায় দেখে মনে হতো এটা তো আমি নই। ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন ছিল, চান্স পাইনি। তারপর মাস্টার্স ও সিএ পড়লাম, এরপর এমবিএ। ক্যারিয়ার শুরু করলাম হিসাব বিভাগে, ভালো লাগলো না, তারপর মার্কেটিং অবশেষে উদ্যোক্তা।

গ্রামীণ সাইবারনেট আমার জীবনের প্রথম চাকুরী। চাকুরীর ৩ মাস বয়সে আমি বিয়ে করে ফেলি। গ্রামীণ সাইবারনেট এ চাকুরী না করলে ইন্টারনেট তথা তথ্য প্রযুক্তিটা ভালো করে শিখা হতো না বা প্রযুক্তির প্রতি একটা ভালবাসা তৈরি হতো না । গ্রামীণ সাইবারনেট এ আমি ছিলাম আকাউনটস ম্যানেজার হিসাবে।

মাথার মধ্যে একটা স্বপ্ন সব সময়ে তাড়া করতো, নিজের একটা কোম্পানি থাকতে হবে, সেখানে অনেক মানুষ কাজ করবে। ৫ বন্ধু মিলে এরকম একটা স্বপ্নের বাস্তবায়ন শুরুও করে দিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ আর চাকরী ছাড়তে রাজি না হওয়ায়, তা শুধু স্বপ্নই রয়ে গেল।

গ্রামীণ সাইবারনেটে জব না করলে অপটিম্যাক্স কমিউনিকেসান লিমিটেড হতো না । গ্রামীণ সাইবারনেট না ছাড়লেও অপটিম্যাক্স হতো না, তাহলে হয়তো গ্রামীণ সাইবারনেটেই বা অন্য কোথাও জব করা হতো ।

তারপর গেলাম গ্রামীণ শক্তিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার হিসাবে । গ্রামীণ শক্তিতে না গেলে অপটিম্যাক্স হতো না কারণ ওখানে গিয়ে স্বপ্ন সত্যি করার কাজ শুরু করি। তারপর আর থামতে হয় নি।

তারপর শুরু হল অপটিম্যাক্স এর যাত্রা । কিন্তু যাত্রাটা অতটা শুভ ছিল না। ১৮ মাস এর মাথায় কোম্পানি বন্ধ হবার উপক্রম হল। যারপর নাই চ্যালেঞ্জ নিয়ে ও অস্বাভাবিক পরিশ্রম করে ও মেধা খাঁটিয়ে আবার হাটি হাটি পা পা করে পরবর্তী ২-৫ বছরে ঘুরে দাঁড়ালাম।

মাঝখানে কিছুদিন সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড এ জব করেছি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে । উদ্দেশ্য ছিল মাল্টিনেশানাল কোম্পানিতে জব এর স্বাদ নেয়া ও কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডের কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করা। এটা ছিল অপটিম্যাক্স এর শুরুর দিকে। তখন আমি সিঙ্গার বাংলাদেশ এ জব ও অপটিম্যাক্সের কাজ দুটাই একসাথে করতাম। প্রতিদিন গড়ে ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করতাম, এখনো তাই করি। সিঙ্গার বাংলাদেশের জবে আমার অভিজ্ঞতা অপটিম্যাক্সের গ্রোথ এ অনেক বেশী সাহায্য করেছে।

মাঝখানে আরও একটা কোম্পানি তৈরি করেছিলাম, অতিমাত্রায় আয় রোজগারের সম্ভবনা দেখা দেয়ায়, দ্রুত ঐ কোম্পানি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেই, কারণ সবসময় সৎ থাকতে বাবা শিখিয়েছেন। বুক ফুলিয়ে চলার আশায় ভালোমানুষ হবার লোভটা সবসময় জাগিয়ে রেখেছি।

বেশ কয়েকবার দেশের বাইরে সেটেল হবার সুযোগ থাকলেও যাইনি। কারণ আমার দেশে থাকতেই বেশী ভালো লাগে কিউট যতসব সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে। একদিন ফুড়ুৎ করে মরে যাবো – মনে রাখার মতো কিছু একটা তো করা দরকার।

জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছিলাম চাকরী করবো না, চাকরী সৃষ্টি করবো। জীবনে সফলতা মানে শুধু বাড়ি, গাড়ী ও টাকা নয়, সফলতা মানে সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সম্পদ আর একজন ভালোমানুষ। আজ আমি ১৫০ টি পরিবারের হাসি মুখ প্রতিদিন দেখতে পাই – এটাই আমার কাছে সফলতা।

আমার উদ্যোগগুলুর সর্বশেষ সংযোজন আলাদীন ডট কম। প্রযুক্তির মাধমে একটু অন্যরকম সেবা দেয়ার প্রত্যয়। আমার কাছে এখন নতুন কিছু করা মানে নিজের সাথে আরও কিছু মানুষকে স্বপ্ন দেখানো।

নিজে স্বপ্ন দেখি ও তরুণদের স্বপ্ন দেখাই – এটা আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা যা আমি কোন প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়া করি এবং অনেক সময় দিই। গত ২ বছরে প্রায় ২৫ জন তরুণের মাঝে এই স্বপ্ন ছড়িয়ে দিতে পেরেছি – এটাই বিশাল প্রাপ্তি। তারা এখন অন্যকে চাকরী দিচ্ছে। এই স্বপ্ন এখন আরও অনেক বড় হয়েছে। এখন ২০০০ এর ও বেশী তরুণ তরুণীদের নিয়ে কাজ করছি – তাঁরা একদিন ১০,০০০ মানুষের কর্ম সংস্থান তৈরি করবে।

আর নিউজ প্রেজেনটেশান ও বিজনেস প্রোগ্রাম উপস্থাপনা, ওটাতো শখ করে করা।

এসএসসি পাশ করেই চামেলি আমার জীবনে চলে আসে, আমাদের বিবাহ হয়। তারপর তার এইসএসসি, গ্রাজুয়েশান, মাস্টার্স, ফ্যাশান ডিজাইনিং, আবার এমবিএ করে আমার পাশে পাশে থেকেই। এখন সে একটা অফিসের সিইও আর এটিএন বাংলা টিভি নিউজ প্রেজেণটার। আমার বউ – চামেলি আমার জীবনে না এলে এবং ওর সহযোগিতা না পেলে আমার জীবনে কিছুই হতো না।

সিঙ্গার বাংলাদেশে যোগ দেয়ার ৬ মাসের মাথায় ও অপটিম্যাক্সের শুরুর দিকের মারাত্মক ক্রাইসিসের সময় আমার প্রাণ প্রিয় বাবা মারা গেলেন । আমার চারিদিকে যেন শুধু অন্ধকার । তারপর থেকে আমার মা আমার কাছে । এই ২জন মানুষের দোয়া আমার জীবনের সব সফলতার চাবিকাঠি ।

জীবনের প্রায় সকল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণী পেলেও ক্যারিয়ার, পরিবার, আত্মীয় পরিজন ও বন্ধু বান্ধব ও নিজের কাছে প্রথম শ্রেণীতে থাকাটা কখনো হাত ছাড়া করিনি।

সর্বোপরি আমার কাছে সফলতা মানে খুশি থাকা।

এবার আপনাদের নিজের বলার মত একটা গল্পের জন্য লেগে থাকবো…

সেশান ৯. জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে ভালোমানুষ হওয়া।

আপনার আশেপাশে মানুষ আপনাকে ভালো বলবে, ভালো জানবে – এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি জীবনে আর কি আছে! আপনার হয়তো অনেক সাফল্য অনেক, অনেক খ্যাতি আছে কিন্তু আপনি ভালো মানুষ নন বা আপনাকে কেউ ভালো বলে না – সব অর্জন বৃথা।

সাফল্য এবং ভালোমানুষ হওয়া দুটো একসাথেই দরকার। ভালোমানুষ হঠাৎ হঠাৎ বা কখনো কখনো হওয়া যায় কিন্তু এটা ধরে রাখার জন্য অনেক ত্যাগ ও ধৈর্য প্রয়োজন যা অনেক কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। শুধুমাত্র ভালোমানুষরাই জীবনে বুক ফুলিয়ে চলতে পারে।

এটা যদি এতো সহজ হতো তবে একটি খারাপ মানুষও খুঁজে পাওয়া যেত না। কিছু বলার বা করার আগে নিজের বিবেককে জিজ্ঞেস করতে হবে – এটা ভালো না মন্দ। নিজের মনের কাছে নিজেকে ভালমানুষ হতে হবে।

ভালোমানুষদের সফলতা পেতে হয়ত একটু বেশী পরিশ্রম ও কষ্ট করতে হয় কিন্ত টিকে থাকে আমৃত্যু। সবচেয়ে বড় কথা তারা জীবনে সুখী হয়।

আমাদের এই ২১৬৪ জন মানুষের পরিবারের প্রথম আইডেটিটি হবে আমরা প্রত্যেকে এক “এক জন ভালোমানুষ”।

প্রতিযোগিতা যদি করতে হয় তবে তা হবে, “কে কার থেকে বেশী ভাল?”। আপনার সফলতা কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

সেশান ১০. স্বপ্ন দেখুন, সাহস করুন, শুরু করুন এবং "লেগে থাকুন"...... সফল হবেনই - এটা আমার প্রিয় একটা শ্লোগান।

কারো কারো দেখবেন, স্বপ্ন আছে, সাহস আছে, শুরুও করে দেন কিন্তু “লেগে থাকতে” পারে ন। এটা অনেকেরই সমস্যা!

এটার একটাই ফর্মুলা জানা আছে আমার কাছে, যা আমি করিঃ

“কাজের প্রেমে পড়তে হবে …… কাজটাকে ভালবাসতে হবে।”

কাজটা করতে যেন আপনি ক্লান্ত না হন। কাজের প্রতি একটা ভালোলাগার চর্চা ও যত্ন করতে হবে। আপনার নিজেকে প্রমাণ করতে হবে যে, ঐ কাজটাতে সফল না হওয়া পর্যন্ত আপনি লেগে থাকবেন। স্বপ্নটা লালন করতে হবে সবসময়।

একটা সময়ে এমনও আপনার মনে হতে পারে যে, এই কাজে আর সফল হওয়া সম্ভব নয়। তখন আবার নতুন কোন স্বপ্ন নিয়ে শুরু করবেন…

কিন্তু এটা কখনো ভাববেন না যে ঐ সময়টা আপনার নষ্ট হয়েছে বা ঐ সময়টাতে আপনি অসফল হয়েছেন। মোটেই না, আপনি এর মধ্য দিয়ে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। যেটা আপনার পরবর্তী প্রোজেক্ট দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করবে।

সুতরাং কখনো থেমে যাওয়া যাবে না।

সেশান ১১. পার্ট টাইম কাজ কি কি হতে পারে?

পার্ট টাইম কাজ হিসাবে রেস্টুরেন্ট/ফাস্ট ফুড শপে পার্টটাইম সার্ভিস, ফার্নিচারের দোকান, ফাস্ট ফুডের দোকান, ঔষধের দোকান, ই-কমার্স কোম্পানিতে পার্ট টাইম জব, ইলেক্ট্রনিক পণ্যের শো রুম বা কোন দোকানের সেলসম্যান, পাঠাও, পণ্য ডেলিভারি, হোম ডেলিভারি, টিউশানি ইত্যাদিতে চেষ্টা করতে পারেন। খুঁজতে হবে সবসময়।

এমনকি কেউ টাকা না দিতে চাইলে ফ্রি তে হলেও কাজ করুন অন্তত ৬ মাস। অনেক কিছু শিখে যাবেন এবং বিজনেস আইডিয়া ও নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।

অথবা ওয়েব ডিজাইনইং, Outsourcing/Freelancing এর কাজ শিখুন – ঘরে বসে আয়ের একটা সুযোগ তৈরি হবে।

আমিও আমার বিজনেসের প্রাথমিক মুল্ধন জোগাড় করেছি পার্টটাইম কাজ করে।

সেশান ১২. স্টার্টআপ ফান্ডিং আইডিয়া

কিছু কিছু নিয়ম তরুণদের ভেঙ্গে ফেলতে হবে…

মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত পরিবারে শুধু নিয়ম রক্ষার স্বার্থে বিয়ের খরচের নামে তার কোমর ভেঙ্গে দেয়া হয় ক্যারিয়ারের শুরুতেই। কেন এক একটা বিয়েতে এত টাকা খরচ? লোক দেখানো? অন্যদের খুশী করার জন্য?

লোণ নিয়ে অথবা এতদিনের সমস্ত সঞ্চয় বিলিয়ে দিয়ে বিয়ের এত আয়োজন কেন? বিয়ের ৩ মাস পর আপনার সংসারের মাসের খরচের টাকা মিটাতে যখন আপনি হিমশিম খান বা খাবেন, তখন ঐ আনন্দের লেশ মাত্র আপনাকে স্পর্শ করবে?

আমি মোটেও বলছি না যে আপনি বিয়েতে খরচ করবেন না। কিন্ত যা হচ্ছে সবার মন রক্ষার্থে, তার তিন ভাগের একভাগ খরচ করেও বিয়েতে আনন্দ করা যায়। বরং ঐ টাকাটা আপনি নিজে বা আপনার বাবা-মাকে বলতে পারেন, বিয়েতে কম খরচ করে ঐ টাকাটা আপনাকে দিতে, যা আপনি আপনার নতুন বিজনেসের মুল্ধন হিসাবে কাজে লাগাতে পারেন। শুরু করতে পারেন নতুন একটা কিছু।

যাদের অনেক টাকা আছে তাদেরকে কিছু বলছি না, তবে আপনিও ভাবতে পারেন, কিছুটা কম খরচ করে বাকী টাকাটা দিয়ে কোন অসহায় মানুষকে একটা ঘর করে দেয়া যায় কিনা বা একটা অসহায় বাবার মেয়েকে বিয়ের খরচ দিয়ে দেন। এটা করে আপনার বিয়েতে ২০০০ লোক খাওয়ানোর চেয়ে বেশী আনন্দ পাবেন।

আপনি হয়ত বলবেন, বিয়ে তো মানুষ জীবনে একবারই করে! এটা মনে রাখার জন্য একটু আড়ম্বর হওয়া দরকার। বিয়ে বা হানিমুন একদিনের কোন বিষয় নয়। জীবনটা সেভাবে সাজানো উচিৎ যাতে সারাজীবন ভালো থাকা যায় ও একসাথে থাকা যায়। জানেন তো সংসারে অভাব থাকলে ভালবাসা জানালা দিয়ে পালায়। এটা আপনি আপনার হবু বউের সাথে ও আলাপ করতে পারেন। সে যদি আপনাকে ভালোবাসে, নিশ্চয়ই একমত হবে।

আপনার ঐ একদিনের আড়ম্বর আপনাকে সারাজীবন ভালো থাকা থেকে বঞ্চিত করতে পারে। বিয়েতে কম খরচ করে ওটাকে আপনার বিজনেসের জন্য প্রাথমিক মুল্ধন হিসাবে নিয়ে, নিজের কিছু একটা শুরু করুন।

৫ বছর পর, প্রতি বছর আপনার ম্যারেজ ডে করুন, ঘুরতে যান, প্রতি মাসে হানিমুন করুন কারণ তত দিনে আপনি শক্ত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যাবেন। একদিনের জন্য যাকে সাজাতে চাচ্ছেন, তাঁকে প্রতিদিন যাতে সাজিয়ে রাখতে পারেন সেই ব্যবস্থা করুন।

সেশান ১৩. ভাগ্য, চমক, Miracle এগুলু আমরা সবাই পেতে চাই – সবার জীবনে।

কোন কিছু না পেলে বা না পারলে আমরা ভাগ্যকে দোষ দেই – আপনি কিন্তু নিজেকে প্রশ্ন করেন না, কেন পারলেন না? কি কি কারণ ছিল তারও কোন বিশ্লেষণ নেই, দোষ শুধু ভাগ্যের।

আবার যখন কোন কিছু পেয়ে যান, বলেন it’s miracle in my life – নিজের যোগ্যতার উপরও ভরসা নেই। Smart work আপনাকে একটা জায়গায় নিয়ে যাবে কিন্তু কোন কোন চমক বদলে দেবে আপনার জীবন।

আপনার কষ্ট দেখে আপনার মা-বাবা কতবার কেঁদেছেন, মনে আছে? মনে আছে আপনার ছোট্ট একটা খুশির খবর শুনে খুশিতে তারা কত ফোটা চোখের জল টপ টপ করে ফেলে দিয়েছেন?
গ্রামের বাড়ি থেকে বেড়ানো শেষে বা যখন পড়াশুনা বা কাজের জন্য আবার চলে আসছেন, পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলেন বারবার হাত দিয়ে সেই বাব-মা অনবরত চোখ মুছছেন। এই চোখের পানির প্রতিটি ফোঁটায় লুকিয়ে আছে আপনার জন্য আজস্র দোয়া ও ভালোবাসা।

আপনার জীবনে যদি কোন ভাগ্য, চমক, Miracle ঘটে থাকে, তা ঘটেছে শুধুমাত্র মা-বাবার দোয়ার কারণে।

সেই বাবা-মার জন্য আমরা কি বা করতে পারছি বা পেরেছি? এই প্রশ্ন নিজেকে করা দরকার। তারা চায় ভালোবাসা। কেউ কেউ চাইলেও পারছেন না কারণ চলে যে গেছেন অকালে বহু দূর না ফেরার দেশে। যাদের বাবা-মা এখনো জীবিত তারাই প্রকৃত ভাগ্যবান।

মা-বাবার মুখের হাসিই আপনার জীবনের একমাত্র চমক।

সেশান ১৪. সফলতা হচ্ছে ৪ “স” – সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সম্পদ।

এই ৪টি যখন একসাথে আপনার জীবনে চলমান থাকে তখন আপনি সফল। এই ৪টির ১টিও অনুপস্থিত মানে আপনি সফল নন।

একটা মানুষের জীবনের সফলতার পিক আওয়ার হচ্ছে ২২-৫৫ বছর (কমবেশি হতে পারে), তাই এটা ভাবা উচিৎ নয় যে আপনি সবসময় সফল থাকবেন – এটা বাস্তবও নয়, সম্ভবও নয়।

উপরে উঠলে নিচে নামতেই হবে, নিচে নামা মানে নেমে যাওয়া নয়, আবার উঠার জন্য বিশ্রাম নেয়া। সফলতা Enjoy করারও সময় দরকার। একজন প্রতিনিয়ত সফল মানুষ কখনো তার সফলতা এঞ্জয় করতে পারে না।

সুতরাং শুধু সম্পদ বা টাকা বা বড় চাকরী বা বড় বিজনেস মানেই সফলতা নয়।

জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে খুশি থাকা। আর একজন ভালমানুষই বেশীর ভাগ সময় খুশী থাকতে পারে।

সেশান ১৫. রতিটি দিন খুবই মূল্যবান

আমাদের একটা জীবনের (গড় আয়ু ৭২ বছর ধরে) –

২৩ টা বছর শুধু ঘুমিয়েই কাটাই,
৭ বছর খেতে চলে যায়,
৮ বছর বাথরুমে কাটাই আর
১০ বছর কাটে যানজটে

কাজ আর বিনোদনের জন্য থাকে মাত্র ২৪ বছর !!!

…… প্রতিটি দিন খুবই মূল্যবান, কিছু না করে একটা দিন কাটিয়ে দিলেন তো পিছিয়ে পড়লেন।

সেশান ১৬. আত্ম জিজ্ঞাসা

গত ৬ মাসে বলার মত কোন ৩টি বলার মত বেস্ট কাজ করেছেন?

১। নিজের জন্য
২। পরিবারের জন্য ও
৩। নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য

সবার কাছ থেকে শুনতে চাই।

আত্ম জিজ্ঞাসা – এটাই নিজেকে প্রশ্ন করা। নিজেকে জানা।

সেশান ১৭. নিজেকে প্রশ্ন গুলো করেন – প্রতিদিন

প্রতিদিন কত ঘণ্টা ফেইচবুক চালান?
কতক্ষণ ফোন এ কথা বলেন?
কতক্ষণ টিভি দেখেন?
কতক্ষণ আড্ডা দেন?
কতক্ষন খেলাধুলা করেন?
কতক্ষণ বই পড়েন?
যাতায়াতে কতক্ষণ?
কতক্ষণ ঘুমান?
পড়াশুনা/অফিস কতক্ষণ করেন?

হিসেব করলে দেখবেন, খুব সহজেই আপনি প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা সময় বের করতে পারবেন। এই ৪ ঘণ্টায় প্রতিদিন কিছু না কিছু পার্ট টাইম কাজের চেষ্টা করুন – শুরু করুন আপনার বিজনেসের প্রাথমিক মুল্ধন জমানো। এটা শুরু করা দরকার ছাত্র জীবন থেকেই।

সেশান ১৮. বদলে যাবার জন্যে যে অভ্যাস গুলু নিজের মধ্যে তৈরি করতে হবে:

১. ৯ টা – ৫ টা ভুলে যেতে হবে। কাজ হবে যতক্ষণ জেগে থাকবেন ততক্ষণ, অন্তত ক্যারিয়ারের শুরুর ৫-৭ টা বছর।

২. ৫-৭ টা বছর উজার করে দিতে হবে ভালোলাগার কাজটার প্রতি,

৩. এই রকম ভাববার কোন কারণ নাই যে সব আইডিয়া সফল হবে, লেগে থাকতে হবে

৪. কোন অভিযোগ বা বাহানা খোঁজা যাবে না, সমাধান খুঁজতে হবে

৫. কোন কাজটা করতে বেশী ভালো লাগে, এটা ঠিক করতে হবে

৬. গতানুগতিক নয় একটু ব্যতিক্রমি কিছু করতে হবে

৭. প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিনিট দৌড়ান

৮. বার বার নিজেকে বলুন আমি পারবো

৯. নিজেকে চালানোর নিয়ন্ত্রন নিজের হাতে নিয়ে নিন

১০. সপ্তাহে কারো অন্তত একটা উপকার করুন

১১. সময় নষ্ট করা যাবে না কারণ সময় একদিন আর আপনাকে সময় দিবে না

১২। এবং শুরু করতে হবে…… ACTION

সেশান ১৯. নিজেকে ভালোবাসার প্রথম পরিচয় হচ্ছে নিজের নামকে ভালবাসা।

নিজের পরিচয়কে ভালবাসা, নিজের কাজকে ভালোবাসা। নিজের পরিচয় দিবেন বুক ফুলিয়ে।

নিজের ফেসবুক ও ইমেইল আইডিও নিজের একটা আইডেনটিটি। আজই নিজের নামের নিজের জন্মদিন বা প্রিয় কোন সংখ্যা যোগ করে একটা ইমেইল অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেন, যা সারাজীবন আপনার বিজনেস ও অন্যান্য কাজে লাগবে।

আর ফেসবুক আইডি বেশ কয়েকজনকে দেখলাম নিজের নামে নাই, পরিবর্তন করে আজই নিজের নামে করে ফেলুন। আপনার ফেসবুক আইডি “নীলাকাশ বা অবুঝমন” হতে পারে না। নিজের প্রোফাইল পিকচারে অন্যের ছবি থাকতে পারে না।

মনে রাখবেন, আপনার ফেসবুকের পোস্ট আপনার রুচি, ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতার পরিচয় দেয়। নিজের ভাল কাজ গুলু ফেসবুকে দিন।

নিজেকে ভালোবাসবেন সবার আগে এবং বেশী বেশী তবেই আপনি অন্যকে, পরিবার, সমাজ ও দেশ কে ভালবাসতে পারবেন।

সেশান ২০. প্রতিটা দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আজ সারাদিন কি করলেন এই প্রশ্নটা প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন – দেখবেন আপনি পাল্টাতে শুরু করেছেন।

প্রতিটা দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি একটা দিন আপনার জীবনে কোন কিছু যোগ করতে পারলেন না মানে আপনি ১ টা দিন হারিয়ে ফেললেন ও পিছিয়ে পরলেন। প্রতিটি দিন জীবনে কিছু না কিছু যোগ করতে হবে।

সেশান ২১. নিজের বলার মত একটা গল্প থাকা দরকার।

সোফিয়ার কথা মনে আছে? তার এই টুকু ক্ষমতা দেখে আপনি বিস্মিত হয়েছেন, অথচ একবার ভেবে দেখেছেন আপনার মেধার ক্ষমতা তার চেয়ে কত কোটি গুন বেশী?

নিজেকে প্রশ্ন করুন আর ভাবুন আপনি এর চেয়ে হাজার গুন বেশী চমৎকার দেখাতে পারেন আপনি নিজে। এই সোফিয়াকে বানিয়েছে কিন্তু একজন মানুষ। শুধু নিজের মেধা ও যোগ্যতার প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে ও নেমে যেতে হবে কাজে। করতে হবে ব্যতিক্রমি কিছু। আপনি অন্যের বিস্ময় দেখে বাহবা দিচ্ছেন, একবার নিজেকে বাহবা দিতে শিখুন। দেখবেন আপনার বদলে যাওয়া শুরু হবে আজ থেকেই।

একটি নতুন স্বপ্ন আপনাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে আপনি ভাবতেও পারবেন না। হাল ছাড়া যাবে না, লেগে থাকতে হবে শেষ পর্যন্ত। আপনার প্রতিটি স্বপ্ন হয়ত সফল হবে না, কিন্তু স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা যাবে না। কারণ স্বপ্নই আপনাকে জাগ্রত রাখবে। নিজেকে বিশ্বাস করান যে আপনি শুধু স্বপ্ন দেখেন না, তা বাস্তবে রুপ দিতেও জানেন।

আবার কেউ কেউ অন্যের ভালো দেখে জ্বলে উঠেন, নিজেকে বদলাতে নয়, নিজের সময় নষ্ট করে অন্যের সমালোচনা করতে। নিজের সময় নষ্ট মানে নিজেরই ক্ষতি। পারলে জ্বলে উঠুন নিজেকে বদলাতে!

আপনাকে কেউ ছোট করছে বা অপমান করছে, করতে দিন। মুখে জবাব দেয়ার দরকার নাই, আপনার কাজ ও সফলতাই পারে তার মোক্ষম জবাব দিতে। সেই সময়টা নিন ও সময়টা কাজে লাগান। না হলে সময় আপনাকে একদিন আর সময় দিবে না!

নিজের বলার মত একটা গল্প থাকা দরকার।

সেশান ২২. সাহস করুন, শুরু করুন ও লেগে থাকুন...... সফল হবেনই।

জীবনে বড়, সফল ও সুখী হবার জন্য পজিটিভিটির কোন বিকল্প নাই। স্বপ্ন দেখুন সাহস করুন শুরু করুন এবং লেগে থাকুন…… সাফল্য আসবেই

সেশান ২৩. একটু এগিয়ে নিয়ে যান নিজেকে, প্রেম আপনাকে খুজবে !

প্রেম করার নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলে, দিনের পর দিন ডেটিং না করে ক্যারিয়ার এ মনোযোগ দিন, প্রেম কে প্রায়োরিটি দিতে গিয়ে আপনি মূল্যবান ক্যারিয়ারটা হারাবেন বা কম সফল হবেন, কারন প্রতিদিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটু একটু যোগ করার জন্য।

প্রেম কে ইন্সপিরেসান হিসাবে না নিয়ে বাকবাকুম বাকবাকুম করতে থাকলে জীবনের ক্যারিয়ার শেষ … শুধুই চোখের পানি।

ভালোবাসাকে যে জীবনের ইন্সপিরেসান হিসাবে নিতে পারবে এবং একদিন বলতে পারবে এই ভালোবাসার মানুষটির জন্য আপনার জীবনটা পাল্টে গেছে, এতো সুন্দর হয়েছে এবং আপনিও ততটাই তাকে ভালবেসেছেন, যত্ন করেছেন – সেটাই সত্যিকারের আনকন্ডিসানাল ভালোবাসা।

জীবন পাল্টে দেয়া ভালোবাসা – যা আপনাকে দায়িত্ব নিতে শেখায়, যা আপনাকে প্রতিদিন বাঁচতে শেখায়, যা আপনাকে ভালো থাকার ও বড় হবার অনুপ্রেরনা দেয়।

একটু এগিয়ে নিয়ে যান নিজেকে, প্রেম আপনাকে খুজবে !

সেশান ২৪. উদ্যোক্তা হওয়া

রাগ করে নেয়া বেশীর ভাগ সিদ্ধান্তই ভুল হয় কিন্তু জিদ করে নেয়া সিদ্ধান্ত সফল হয় বেশী।

রাগ হয় অন্যের সাথে আর জিদ হয় নিজের সাথে। জিদ করে শিখে ফেলুন অনেক কিছু, তাতে লাভ শুধু আপনারই হবে – আপনার আশেপাশে মানুষ গুলুও ভালো থাকবে।

উদ্যোক্তা হওয়া – এটা শুধুমাত্র একটা ইচ্ছা এবং না হতে পারা পর্যন্ত লেগে থাকা।

সেশান ২৫. জীবনটা আপনার সিদ্ধান্তও আপনার।

আপনার জীবনে যে সিধান্ত গুলু নেন তা কি নিজে নেন, না অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নেন?

ধরে নিন আপনার উপর কারো কোন প্রভাব নেই, তাও কি আপনি আপনার নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন? যাকে বলে “দিলকো সুনো”।

তবুও আপনি চারিদিকে তাকাবেন, কে কি বলবে? কেউ তাকাচ্ছে কি না? উনি কি ভাববেন? সে কি মনে করবে? পারবো তো? না পারলে আমার কি হবে? প্রতি মুহূর্তে নিজেকে ডিপ্রাইভড করছেন।

আসলে আমাদের মনের মাঝে ২ টা মানুষ বাস করে, একটা আপনি নিজে আরেকটা অন্যদের মতামত বা অন্যদের ভাবনা যা আপনি আপনার মত করে নিজের মধ্যে সাজিয়ে রেখেছেন, নিজেকে আটকানোর জন্যে বা সান্ত্বনা দেবার জন্যে।

অন্যের মতামত আপনি অবশ্যই শুনবেন কিন্তু সিদ্ধান্তটা নিবেন নিজে। ভুল হলে আপনি নিজেই তা আবার ঠিক করবেন। নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ফলাফলের জন্য আপনি অন্যকে দায়ী করতে পারেন, কিন্তু তাতে আপনার জীবনটা বদলাবে? বদলাবে না।

জীবনটা আপনার সিদ্ধান্তও আপনার।

সেশান ২৬. আপনার কথা

যদি আপনি শুদ্ধ ভাষায় (যতটা পারা যায়) ও শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলেন, আপনার পক্ষে রাগ করা বা রাগ করে অশ্লীল বা কটু কথা বলা মুশকিল।

তার প্রথম ফলাফলটা হল শরীরটাকে ভালো রাখা সম্ভব, হৃদ রোগ বা উচ্চ রক্তচাপ থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। কারো সাথে সম্পর্কের অবনতি হবার সম্ভাবনাও কম থাকবে।

আপনি সুন্দর করে কথা বলতে পারেন, তাই পরিবার ও বন্ধুবান্ধবরা আপনার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে ও আপনাকে গুরুত্ব দিবে।

প্রথম প্রথম আপনার আশেপাশের মানুষ এটা নিয়ে একটু হাসাহাসি করবে কিন্তু ইতিমধ্যে আমরা শিখে ফেলেছি আশেপাশের মানুষকে কিভাবে জবাব না দিয়ে জবাব দিতে হয়।

এতগুলু নগদ লাভ যেখানে, আসুন শুদ্ধ বাংলায় কথা বলি – এটাই বুদ্ধিমত্তা ও ঝকঝকে ভাব (স্মার্টনেস)।

যা আপনাকে মার্কেটিং এ ভাল করতে সাহায্য করবে।

সেশান ২৭. আপনাদের সফলতাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আমি যখন আপনাদের মত তরুন-তরুণীদেরকে নিয়ে বিশেষ করে ৬৪ জেলা নিয়ে এই রকম বিশাল ও লম্বা কর্মশালার কথা ভাবছিলাম, স্বপ্ন দেখছিলাম এবং কয়েক জনের সাথে আলাপ করছিলাম, সবাই বলেছে – এটা অসম্ভব!

বিশেষ করে ৯০ দিন এই কর্মশালা চালানো, এটাতো অবাস্তব কল্পনা, আমার ধৈর্য থাকবে না।

কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি, লেগে ছিলাম ব্যাপক ভাবে অনেকটা নিজের সাথে সংগ্রাম করে। নিজের পরিবার থেকে কিছু সময়, অফিস থেকে কিছু সময় ও ঘুম থেকে কিছু সময় নিয়ে করতে থাকলাম এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। এক সময়ে আপনাদের শিখার আগ্রহ দেখে কাজটার প্রেমে পড়ে গেলাম।

আপনাদের প্রতিটি সফলতা আমি ভিডিও, লাইভ ও পোস্টের মাধমে তুলে ধরবো।

আপনাদের হাসি ও খুশী আমাকে অনেক বেশি আনন্দ দিবে। আমি খুশী আমরা এই বিশাল ৫১৬৪ জনের পরিবারের সবাই ভালোমানুষ হতে পেরেছি এবং ভালোমানুষ হয়ে থাকবো আজীবন – যত বাধাই আসুক।

তবে ভাল মানুষ হয়ে থাকার ব্যাপারে নিজেকে ফাঁকি দেবেন না কখনো। মনে রাখবেন আপনার জবাবদিহিতা আপনার কাছে।

আর আমার একটা মেসেজ দেবার ছিল বর্তমান সমাজকে – স্বার্থ ছাড়াও সমাজের জন্য, দেশের জন্য, তরুণদের জন্য কাজ করতে পারে এমন কিছু কিছু মানুষ এই বাংলাদেশে এখনও আছে।

নিঃস্বার্থভাবে সমাজকে ও দেশকে কিছু দেবার জন্য সময় তাদের আছে। একটু পাগলামো ছাড়া কোন ভালো ও মহৎ কাজ হয় না, হয় নি কখনো।

আপনাদের সফলতাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

সেশান ২৮. বিজনেস আইডিয়া

প্রত্যেক জেলায় কিছু কিছু পণ্য বা সেবা আছে যা খুবই বিখ্যাত। যেমন টাঙ্গাইলের শাড়ি, বগুড়ার দই, চাদপুরের ইলিশ, দিনাজপুরের চাল ইত্যাদি। কোন কোন জেলায় ২-৪ টা জিনিষও বিখ্যাত হতে পারে বা ভালো হলে আপনারা বিখ্যাত বানাতে পারেন।

৭ দিন সময় নিন, যার যার জেলায় যান (আগামী ৩-৪ দিন ছুটি আছে) বা ৪-৫ জনের মাধ্যমে খোঁজ নিন এবং একটা সার্ভে করুন – কার জেলায় কি কি পণ্য বা সেবা বিখ্যাত বা কোন ভালো পণ্যকে বিখ্যাত বানাতে পারেন?

আপনার জেলায় কোনটি ও কি কি পণ্য? বা যেটি ভালো পণ্য এখনো বিখ্যাত নয় কিন্তু বিখ্যাত করা সম্ভব – খুঁজে দেখুন।

আপনার অন্য বিজনেস আইডিয়ার পাশাপাশি এই আইডিয়াটা সাথে নিয়েও একটা বিজনেস দাড় করাতে পারেন। ছোট করে হোক – তবে শুরু হউক।

এই পণ্য গুলু সারা দেশে আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব। সেই আইডিয়া নিয়ে আমরা ব্রেইনস্টরমিং করবো।

৬৪ জেলায় ৬৪ বা ১২৮ জন ইনভেস্টরকে নিয়ে অনলাইনে ওয়েবসাইট করে একটা বড় প্ল্যানও করা যায় এই জেলা ভিত্তিক সেরা পণ্য গুলু নিয়ে।

সেশান ২৯. কাজ শুরু করুন আজ থেকেই।

আইডিয়া কন্টেস্ট

আপনারদের সবার মধ্যে একটা আইডিয়া কন্টেস্ট করতে চাই। যার আইডিয়া বেস্ট হবে তার জন্য রয়েছে পুরষ্কার ও ঐ আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেয়া হবে। সময় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে আপনার আইডিয়া সাবমিট করবেন। পূর্ণ আইডিয়া জমা দেয়ার সময় ১৮ই মে ২০১৮ রাত ৯.০০ থেকে ১০.০০ টা।

কি কি থাকতে হবে আপনার আইডিয়াতেঃ

১। প্রোজেক্টের নাম?
২। কি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বাজারে আনবেন?
৩। টোটাল ইনভেস্টমেন্ট কত?
৪। মাসিক আয় কত হবে? ১২তম মাসে কত?
৫। মাসিক খরচ কত হবে? ১২তম মাসে কত?
৬। কত মাস বা বছর পর থেকে লাভ শুরু হবে?
৭। Return on Investment (ROI) কত?
৮। কাস্টমার কারা হবে?
৯। প্রতিটি পণ্য বা সার্ভিসের ক্রয় মূল্য ও বিক্রয় মূল্য কত হবে?
১০। বাংলাদেশের কোথায় কোথায় এটা বিক্রি হবে?

উপরের ১০ টি পয়েন্ট লিখে এখানে কমেন্টে পাঠাবেন। সবাই দেখুক কিন্তু কেউ কারো আইডিয়া নকল করবেন না। সবাই একই দিন একসাথে অর্থাৎ ১৮ই মে রাত ৯.০০ টা থেকে ১০.০০ টার মধ্যে পোস্ট করবেন। যারা ইমেইল এ পাঠাতে চান এখানে পাঠাতে পারেন 128uddogta@aalaadin.com.bd ১৫ থেকে ১৮ই মে এর মধ্যে।

কোন কাল্পনিক বা অবাস্তব টাকার অঙ্ক লিখবেন না, অনুমান হবে বাস্তবতার কাছাকাছি।

কাজ শুরু করুন আজ থেকেই।

সেশান ৩০. ফান্ডিং

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল

আপনার বিজনেস আইডিয়াতে মূলধন দেবার জন্য বেশ কয়েকটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফাম কাজ করছে। বাংলাদেশে পরিচিত ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মধ্যে আছে
বিডি ভেঞ্চার,
ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল,
বিডি ভেঞ্চার লিমিটেড,
মসলিন ক্যাপিটাল লিমিটেড,
ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লি,
বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেড,
লংকা বাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড,
এথেনা ভেঞ্চার এবং
ইকুইটি লিমিটেড।

(এদের সম্পর্কে জানতে ও কিভাবে ফান্ড পাওয়া যাবে তা জানতে এদের ওয়েব সাইট গুলু ভিজিট করুন)

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম বা কোম্পানি এই তহবিল ব্যবস্থাপনা করে। বিনিময়ে তারা ব্যবস্থাপনা ফি পায়। ভেঞ্চার ফান্ডের মেয়াদ দীর্ঘ। ৫ থেকে ১৫ বছর। ভেঞ্চার ফান্ডে যারা বিনিয়োগ করে তাদের লিমিটেড পার্টনার বা এলপি বলে। আর যারা এই ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ করে তাদের জেনারেল পার্টনার বা জিপি বলে। জেনারেল পার্টনাররা টাকার সাথে সাথে নিজেরা তহবিল ব্যবস্থাপনায় জড়িত থাকেন। স্টার্ট আপ বাছাই করেন, নিরীক্ষা বা ডিউ ডেলিজেন্স করেন। বিনিয়োগের পর বিনিয়োজিত প্রতিষ্ঠান দেখভাল করেন, তাদের পর্ষদে পরিচালক হিসাবে বসেন। ভেঞ্চার ফান্ড থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়। ভেঞ্চার ফার্ম বা কোম্পানি এই বিনিয়োগের ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বিনিয়োগ দীর্ঘ মেয়াদের। তিন থেকে আট বছর পর্যন্ত।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল একটি উদ্যোগের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থায়ন করে; যথাঃ সিড বা বীজ, অর্থাৎ ব্যবসা যখন উদ্যোক্তার মনে আইডিয়া আকারে থাকে (২) উদ্যোক্তা ব্যবসা শুরুর জন্য কাজ শুরু করেছে কিন্তু বিক্রয় শুরু হয়নি, (৩) ভালো আয় আসছে, ব্রেক ইভেন হয়েছে বা কাছাকাছি।

শুধু দুস্প্রাপ্যতা বা প্রাপ্তির জটিলতা নয়, নতুন উদ্যোক্তার জন্য ব্যাংক ঋণ, প্রকৃতিগতভাবে, অসুবিধাজনক। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পর থেকেই সুদ আরোপ শুরু হয়। অথচ ব্যবসার প্রাথমিক পর্যায়ে লোকসান হওয়া স্বাভাবিক।

ভেঞ্চার ক্যাপিটালকে বলা হয় স্মার্ট মানি। এখানে শুধু অর্থ নয়, তারও অধিক কিছু মিলে। বুদ্ধি পরামর্শ, নেটওয়ার্ক ইত্যাদি। ঋণের মত, নিরাপদ নয়। ঋণের ক্ষেত্রে জামানত থাকে। জামিনদার থাকে। আইনের সুরক্ষা থাকে। ঋণীকে একগাদা আইনি কাগজপত্রে সাক্ষর দিতে হয়। পক্ষান্তরে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, বিনিয়োজিত কোম্পানির লাভ লোকসানের ভাগিদার। উক্ত কোম্পানির লোকসান মানে তার লোকসান।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আপনার পার্টনার, মজার ব্যপার হচ্ছে প্রাধান্য আপনারই বেশি থাকবে যাকে ইংরেজিতে মেজরিটি বলে থাকি। মানে বেশীরভাগ শেয়ার ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নিয়ে যায়না ব্যবসায়ের বেশীরভাগ শেয়ার এবং কতৃত্ব উদ্যোক্তারই থাকে। তবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল চাইবে আপনাকে কীভাবে সফলতায় নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু ব্যাংক তার উল্টো আপনি কিভাবে ব্যবসা করেছেন বা কিভাবে লাভ লস করেছেন সেটা আপনার ব্যাপার আপনি ঋনের টাকা ও সুদ পরিশোধ করতেই হবে। ব্যাংক সাধারণত নতুন উদ্যোক্তাদের ফাইন্যান্স করেনা কিন্তু এখানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম একটা ভরসার জায়গা৷ তবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল থেকে বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার ব্যবসায়িক আইডিয়া শেয়ার করতে হবে তাদের সাথে।

Unique Vision 24kenakata

সেশান ৩১. মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

১। এটা এখন মুলত নেটওয়ার্কিং – যার নেটওয়ার্কিং যত ভাল বা যত বেশী, তাঁর সেল তত বেশী।

২। কোয়ালিটি ভিজিট – এটা হল ডোর টু ডোর মার্কেটিং। কেউ একটা ভিজিট করে একটা কাস্টমার পায়, কেউ ১০ টা ভিজিট করে ১ সেল পায়। যদি ১০ টাতে না হয় তখন ১১, ১৫……৫০ টা হিট করতে হবে……কিন্তু হবেই।

৩। লিফলেট, বিল বোর্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার যথেষ্ট কাজে দেয়। এখানেও প্রয়োজনে সেল বাড়ানোর জন্য সংখ্যা বাড়াতে হবে।

৪। ফেসবুক এখন বেশ জনপ্রিয় মার্কেটিং টুলস – আপনার বিজনেসের অবশ্যই একটা ফেসবুক পেইজ থাকা দরকার। সারা দেশে আপনার বিক্রয় ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এটা খুব কাজে দিবে।

৫। একটু বড় চিন্তা করলে একটা ওয়েবসাইট থাকা দরকার।

৬। যেই প্রোডাক্টই বিক্রি করেন না কেন, আপনার কাস্টমারের একটা তালিকা বা ডাটাবেজ সংরক্ষন করবেন। নতুন যেই প্রোডাক্টই আপনি আনবেন তা পুরনো কাস্টমারকে জানাবেন। সেল বাড়বে।

৭। কাস্টমারের প্রতি যত্ন, সম্মান ও ভালো ব্যাবহার – নিশ্চিত ভাবে আপনার বিক্রি বাড়াবে এবং রিপিট কাস্টমার বাড়বে।

৮। কোয়ালিটি প্রোডাক্ট দেয়া অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই খারাপ পণ্য না দেয়া, বাজার মূল্যের চেয়ে দাম বেশী না রাখা – তাতে কাস্টমারের আপনার প্রতি আস্থা বাড়বে এবং সে আরও ১০ জনকে আপনার কথা বলবে, বিক্রি বাড়বেই।

৯। বিক্রয়ের স্থান, শোরুম বা অফিস যতটা সম্ভব সুন্দর, আকর্ষণীয় ও পরিষ্কার রাখা, যাতে কাস্টমার এসে একটা ভাল পরিবেশ পায় – তাতে আপনার জায়গায় কাস্টমারের ভিড় বাড়বে।

১০। নিজেকে একজন ভালো সেলসম্যান হিসাবে তৈরি করা।

খুব বেশী দরকার নেই, এই ১০ টা ফলো করেন, আপনার বিক্রি নিশ্চিতভাবে বাড়বেই।

সেশান ৩২. কেউ ঘোষণা দিয়ে নিজেকে বলে না “আমি একজন খারাপ মানুষ”,

যে অনেক খারাপ ও ভয়ংকর সেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খারাপ কাজটা করে গোপনে বা রাতের অন্ধকারে। এবং দিনের বেলা সেই খারাপ মানুষটা নিজেকে ভালোমানুষ বোঝানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করে সবাইকে।

এক সময় সবাই তা বুঝতে পারে যে উনি কতটা গরীব ও অসহায় এবং একা! পৃথিবীতে কোন মন্দ কাজই লুকিয়ে রাখা যায় না, যায়নি কখনো।

তারপরও মানুষ মানুষকে মেরে ফেলে, আঘাত করে, কষ্ট দেয়, অপমান করে, হিংসা করে। এগুলু করে কেউ ভালো নেই, একজনও না।

মজার ব্যাপার হচ্ছে খারাপ কাজ করার জন্য অনেক অর্থ, মেধা (কুবুদ্ধি) ও সময় দিতে হয়, কিন্তু ভালো কাজ করার জন্য এসব কোন কিছুরই প্রয়োজন হয় না। এটি শুধু একটি ইচ্ছা।

সেশান ৩৩. ১৪টি অনলাইন বিজনেস আইডিয়া:

ব্যবসা? পুঁজি লাগবে না? না, এই অনলাইনের যুগে একটি কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন থাকেন পুঁজি ছাড়াই আজ থেকেই আপনি ব্যবসায় নামতে পারেন। আসুন দেখে নেওয়া যাক এমন ১৪টি অনলাইন বিজনেস আইডিয়া।

০১. এসইও কনসালটেন্ট : আপনি কি সার্চ ইঞ্জিনের বিষয়ে অভিজ্ঞ? মানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে জানেন; কিন্তু কোথাও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠানের আশায় বসে না থেকে অনলাইনেই শুরু করুন এসইও সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া। অনেক প্রতিষ্ঠান পাবেন যারা আপনার পরামর্শ নেওয়ার জন্য বসে আছে। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স সাইটে এমন কাজ পাবেন। না হলে সোজা গুগল সার্চ দিন।

০২. বিজনেস প্রশিক্ষণ : আপনার ব্যবসা সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকতেই পারে। কিন্তু পয়সার অভাবে নিজের স্বপ্ন অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন না। আপনার এই অভিজ্ঞতা বসে বসে নষ্ট করার কোন মানে নেই।
অনলাইনে এমন অনেককে পাবেন যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চাইছে। লিংকডইনে যান, সেখানে আপনি ব্যবসা সংক্রান্ত আর্টক্যাল লিখতে পারবেন। এর দ্বারা সেখানে আপনি অনেক ক্লায়েন্ট পাবেন। তাদের সদুপদেশ দিয়ে নিজের মেধা এবং অভিজ্ঞতা ঝালিয়ে নিতে পারবেন। সেই সঙ্গে টু-পাইস ইনকাম তো আছেই।

০৩. স্পেশালাইজড রিটেইলার : বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন দেশের সব বড় শহরগুলোতেই স্পেশালাইজড শপ বা সুপারশপ আছে। এদের মধ্যে অনেক ছোট বড় প্রতিষ্ঠান আছে যারা অনলাইনে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রচার এবং বিজনেস শুরু করতে ইচ্ছুক। সেই সব প্রতিষ্ঠানের কোন একটির সঙ্গে চুক্তি করে আপনি তাদের পণ্যসম্ভার দিয়ে একটি অনলাইন শপ চালু করে ফেলতে পারেন। ঘরে বসে হয়ে যান রিটেইলার শপার।

০৪. সোশ্যাল মিডিয়া পরামর্শক : তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সোশ্যাল সাইটগুলো চরম উত্কর্ষ অর্জন করেছে। জীবনের সব সমস্যার সমাধান যেন হয়ে উঠছে ফেসবুকের মত মাধ্যমগুলো। নিত্য নতুন ফিচারের পাশাপাশি বাড়ছে সোশ্যাল সাইট হ্যাক করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করার মত ঘটনা। আপনার যদি সোশ্যাল সাইটগুলোর ব্যবহারবিধি, নিরাপত্তাসহ ফ্রেন্ড-ফলোয়ার বৃদ্ধির বিভিন্ন ট্রিকস জানা থাকে হবে আপনি হয়ে যেতে পারেন সোশ্যাল মিডিয়া কনসাল্টেন্ট। এমনটা করলে অনেক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজ পেতে পারেন।

০৫. ওয়েব ডিজাইন : বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিজনেস এটা। এখন একটি ছোটখাট প্রতিষ্ঠানও চিন্তা করে তাদের একটা ওয়েবসাইট থাকা দরকার। আপনার যদি ওয়েব ডিজাইন জানা থাকে তবে বসে থাকার কোন মানে নেই। ফ্রিল্যান্স সাইটগুলোতে নিজের পোর্টফোলিও পোস্ট করুন। একটি নমুনা ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে রাখুন। বাজারদর বিবেচনা করে সাশ্রয়ী পারিশ্রমিক ঘোষণা করুন। আপনাকে আর ঠেকায় কে?

০৬. আবেদনপত্র/কভার লেটার লেখা : আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে অনেক শিক্ষিত মানুষ সুন্দর করে একটি চাকরির আবেদনপত্র লিখতে জানে না। কিন্তু চাকরিক্ষেত্রে একটি সুন্দর গ্রহণযোগ্য আবেদনপত্র কিংবা কভার লেটার অন্যদের সঙ্গে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আপনার এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকলে লিংকডইন কিংবা সোশ্যাল সাইটগুলোয় এই বিষয়ে ক্লায়েন্ট খুঁজতে পারেন। ক্লায়েন্ট যে পাবেন এতে কোন সন্দেহ নেই।

০৭. টাস্ক ম্যানেজার/সহকারী : আপনার যদি ভাল অর্গানাইজিং দক্ষতা থাকে তবে আপনি এই ব্যবসার উপযুক্ত। আপনি কি অনলাইনের বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান দিতে পারেন? তবে আপনার এই দক্ষতা একজন ব্যাক্তিগত সহকারী কিংবা অনলাইন টাস্ক ম্যানেজার হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন। TaskRabbit কিংবা Zirtual এর মত কোম্পানীগুলো টাকার বিনিময়ে আপনার মত মানুষকেই খুঁজে থাকে। এসব সাইটে আপনি ডাটা রিসার্চ, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট সহ বিভিন্ন কাজে সহকারীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

০৮. প্রফেশনাল ফ্রিল্যন্সার : ফ্রিল্যান্সিং বলতে সাধারণত অবসর সময়ের কাজকেই আমরা বুঝে থাকি। কিন্তু সময়ের পাশাপাশি ধারণাও পাল্টে গেছে। এখন প্রচুর বেকার তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সিংকে মূল পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন। আপনি চাইলে পার্টটাইম কাজও করতে পারেন। বেকার বসে না থেকে আজই যুক্ত হোন ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে।

০৯. অনলাইন মার্কেটিং : আপনি যদি আমাজানের মত সাইটগুলোতে পণ্যের রিভিউ লেখায় অভ্যস্ত থাকেন তবে এখনই তা বন্ধ করুন। কারণ বিনামূল্যে কেন আপনি কোন পণ্যের মার্কেটিং করবেন? ওয়ার্ড অব মাউথ-এর মত অনেক কোম্পানী আছে যারা নিজেদের প্রোডাক্ট অনলাইনে প্রমোট করার জন্য আপনাকে পয়সা দেবে। আপনার যদি প্রচুর ফলোয়ার সমৃদ্ধ সাইট কিংবা সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থাকে তবে তো সোনায় সোহাগা। আজই লেগে যান কাজে।

১০. ই-বুক লেখক : আপনার লেখালেখির হাত, ভাষার দক্ষতা এবং টাইপিং স্পীড যদি ভাল থাকে তবে আপনি অনায়াসে একজন ই-বুক রাইটার হতে পারেন। এটি অনেক সহজ একটা কাজ। ই-বুকের চাহিদা এত পরিমাণে বাড়ছে যে ই-বুক রাইটার খুঁজতে পাবলিকেশন্সগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। অনলাইনে এমন গ্রাহক খুঁজে নিতে পারেন সহজেই।

১১. প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান : অনেক ছোটখাট কোম্পানী আছে যাদের কোন আইটি স্পেশালিস্ট নেই। তাদের প্রযুক্তিগত কোন সমস্যা হলে বাইরের লোক ডাকতে হয়। আপনি এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অনলাইনে বসেই শুরু করতে পারেন প্রযুক্তগত পরামর্শ প্রদান। সমস্যা হলে তারা আপনাকে জানাবে এবং আপনি ঘরে বসেই সমাধান দিয়ে দেবেন। আর কী চাই?

১২. ভার্চুয়াল চালান : শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এই কাজটি আপনি নিজেই অহরহ করে থাকেন ব্যাংক কিংবা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। আপনার একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে সেখানে গুগল চেকআউটের মত ট্রানজেকশন হ্যান্ডল করতে পারেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাদের অনলাইন চালানসমূহ অর্গানাইজ করার জন্য আপনাকে খুঁজে নেবে। আপনি তাদের সাইট থেকে পণ্যের ছবি বিবরণ কপি করে নিজের ওয়েবসাইটে আনুন। তারপর নির্দিষ্ট আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে নেমে পড়ুন পণ্য বিক্রয়ে।

১৩. হস্তশিল্প বিক্রেতা : অটোমেটিক মেশিনের যুগে হস্তশিল্পের কদর মোটেই কমেনি। বরং প্রচারের অভাবে এই প্রাচীণ শিল্প মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না। আপনি এমন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন। তাদের পণ্য আপনি অনলাইনে বিক্রি করবেন। গ্রাহকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ নিয়ে আপনি কুরিয়ারের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন তাদের কাছে।

১৪. অ্যাপ ডেভলপার : স্মার্টফোনের যুগে অ্যাপের ছড়াছড়ি। মানুষ এখন কম্পিউটারে বসে সাইট ব্রাউজ করার চাইতে স্মার্টফোন অ্যাপেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন অ্যাপ ডেভলপিংয়ে আগ্রহী। আপনি যদি কোডিং সম্পর্কে ভাল জেনে থাকেন তবে লেগে পড়ুন অ্যাপ ডেভলপিংয়ে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন সফওয়্যার ডেভলপার কোম্পানীও অনলাইনে ডেভলপার চায়। প্রথমে নিজে একটি আকর্ষণীয় অ্যাপ তৈরি করে নমুনা হিসেবে দেখান এবং যৌক্তিক পারিশ্রমিক দাবি করুন। আপনার কাজ পাওয়া নিশ্চিত।

সেশান ৩৪. আপনার একটা অফিস বা কোম্পানি করতে কি কি লাগবে?

1. You need a sound & unique Name
2. Registration of Company/Proprietorship/Partnership
3. Office address (rent/own), if rent then need deed of rent
4. Logo
5. Company email ID & Contact numbers
6. Trade license
7. VAT & TIN
8. IRC (if you import)
9. Website & Facebook
10. Office Set up & Recruitment

সেশান ৩৫. আইডিয়া

Few Business Ideas for you, see which one is best for you
(এটা হল যারা আইডিয়া খুঁজে পাচ্ছেন না তাদের জন্য। যারা ইতোমধ্যেই আপনার বিজনেস আইডিয়া সিলেক্ট করে ফেলেছেন, তাদের আর এদিক ওদিক তাকানোর দরকার নাই, আপনার নিজেরটা নিয়ে এগিয়ে যান):

1. Poultry hatchery:
2. Dairy firm:
3. Fishing hatchery:
4. Being a local agent of a company
5. Showroom of any running products
6. Establishing a channel of distribution
7. School:
8. A retail shopঃ Home service may be offered at a nominal charge. Online order placement facility with payment system can be an additional feature of such a kind of shops.
9. Real state company at village level:
10. Producing handicraft:
11. Boutiques & fashion design:
12. A fitness centre:
13. Software development firm:
14. Procurement houses: Procuring crops in the peak season for selling the same in off the season may be one good way of doing business. For example, procuring rice, potato, tomato etc., during their peak season and selling those in the off-season, after three or four months, may be a profitable business for a graduate.
15. Broadband internet:
16. Fast Food
17. Restaurant
18. Service centers: Establishing a service center for trouble-shooting of TV sets, computer instruments, refrigerators, air conditioners, wovens, blenders household appliances etc.,
19. Home-service laundry:
20. Whole of best products from your District.
21. Day-care centers: Establishing day-care centers for minor children and the aged may be a new business concept in Bangladesh.
22. House-rent/Office Rent/Rent A Car information centers:
23. Tarki Chiken firm.
24. Call centers:.
25. Commercial Cleaning Centers: Commercial cleaning may be a good business in Bangladesh. The centers, catering to the demand in this field, can wash cars, and carpets, and clean apartments commercially. They can offer cleaning services also to corporate customers.
26. Animal health clinics: Clinics for domestic animals are emerging as a demand-based business opportunity in the country. Such clinics can offer services to both individual and corporate clients.
27. Franchise shops: Having a franchise show-room of a reputed company at district or upzilla level may be a source of good business for newly graduated students.
28. Beauty parlors:
29. Relocation of service centers: Every month increasing numbers of families are relocating their households to different parts of towns. Relocating furniture and fixture safely from one place to another may become a professional service in the near future.

সেশান ৩৬. সার্টিফিকেট বানানোর শিক্ষা নয়, দরকার কাজ শেখার শিক্ষা।

একটা সময়ে স্কুলে অলিখিত একটা নিয়ম ছিল, যারা ভালো ছাত্র (মেধাবী) তারা সবাই বিজ্ঞান বিভাগে পড়বে অর্থাৎ তারা ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার হবে। যারা গড়ে ৪০-৫০ নম্বর পেতেন ও ইংরেজিতে ফেল করতেন তারা বাণিজ্য বিভাগে পড়বে অর্থাৎ তারা ব্যাংক/অফিসের হিসাবনিকাশের চাকরি করবে।

আর যাদের একমাত্র আশা ভরসা ও স্বপ্ন ৩৩ নম্বর, তারা মানবিক বিভাগে পড়বে অর্থাৎ সরকারী চাকরি করবে বা স্কুল বা কলেজে মাস্টারি করবে। বলে দেয়ার কেউ ছিল না যে তাদের আসলে কি করা উচিৎ বা কি পড়া উচিৎ।

বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং ধীরে ধীরে টেলিভিসন ও ইন্টারনেটের প্রসারের কারণে এই ধারণা বদলেছে। এখন মেধাবিরা শুধু ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার নয়, তারা চার্টার্ড অ্যান্ড কষ্ট একাউনট্যাঁনট, এমবিএ, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি পড়ছে। তরুণরা এখন নিজেরাই নানান রকম তথ্য এনালাইসিস করতে পারছে কোথায় তাদের পড়া উচিৎ। তবুও এখনো বাবা-মা রা তাদের সিধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছেন সন্তানদের উপর যে তারা কি হবে বা কি বিষয়ে পড়বে।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশে সবাই হুজুগে দৌড়ায়। এক একবার একেকটা জোয়ার আসে তো সবাই সেটাতে গা ভাসিয়ে দেয়। শিক্ষা বাণিজ্যিকরাও সেই সুযোগটা লুফে নেন। ২-৪ টা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি বাদ দিলে বাকি ইউনিভার্সিটিগুলুর মান নিয়ে কথা নাই বা বললাম। এত বিবিএ এমবিএ দিয়ে কি হবে? কারা চাকরী দিবে, কোথায় চাকরী পাবে আমাদের তরুণরা?

যে ছেলেটা বা মেয়েটা ক্রিকেট খেলবে, গান করবে, অভিনয় করবে, ফটোগ্রাফার হবে, বড় সেফ হবে, ডিজাইনের কাজ করবে, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট করবে, হোটেলে কাজ করবে, আউটসোরসিং এর কাজ করবে, ফাস্ট ফুডের বিজনেস করবে, মেডিক্যাল ল্যাব এর কাজ করবে, মার্চেন্ডাইজিং এর কাজ করবে, আধুনিক কৃষি ভিত্তিক কাজ করবে – সে কেন বিবিএ এমবিএ বা ভূগোল পড়বে! খেলা, গান, ডিজাইন, ফটোগ্রাফি, মার্চেন্ডাইজিং সহ এই সকল বিষয়ের উপর তারা গ্রাজুয়েসান করবে প্রয়োজনে মাষ্টারস করবে।

দরকার এসএসসির পর থেকেই কারিগরি শিক্ষা। যারা গত ১৫-২০ বছরে শত শত প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি বানিয়ে এমবিএ ও বিবিএ সার্টিফিকেট বিক্রি করেছেন এবং আমাদের তরুণরা সেই সনদ দিয়ে কোন চাকরী বা উদ্যোত্তাও হতে পারেনি, তাদের অনুরোধ করবো আপনারা এবার কিছু আধুনিক কারিগরি কলেজ/ইউনিভার্সিটি বানান যাতে আমাদের মেধাবী ও কর্মঠ তরুণরা এসএসসির পর থেকেই হাতে কলমে কাজ শিখতে পারে ও ঐসকল বিষয়ে প্রয়োজনে ডিগ্রি নিতে পারে।

এক্ষেত্রে সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন ও নতুন নীতিমালা দরকার। যদিও আমাদের দেশে বেশ কিছু পলিটেকনিক ইন্সিটিউট আছে, ঐগুলুর মান এবং সিলেবাস বর্তমান সময়ে একেবারেই অচল। যদি ঐগুলুকে ব্যাবহার করেও আমাদের লাখ লাখ দেশ প্রেমিক শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানো যেত, তবে তারা এখনকার চেয়ে ২-৩ গুন বেশী আয় করতে পারতো। আমাদের তরুণরা বিদেশের হোটেলের রুম সার্ভিসের কাজ না করে ম্যানেজার হতো।

সার্টিফিকেট বানানোর শিক্ষা নয়, দরকার কাজ শেখার শিক্ষা।

সেশান ৩৭. আপনাদের সবার মা কে সালাম !

আজ আপনার মা কে পা ধরে সালাম করবেন, হাতে একটা ফুল দিবেন তারপর মাকে জরিয়ে ধরে বলবেন “মা আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি”। এখনি করুন। যারা মা থেকে দূরে থাকেন ফোন করে বলুন।

একটু লজ্জা লজ্জা লাগবে, কারো কারো অনেকদিন বলা হয় না, কিন্ত এই লজ্জা ভাঙ্গতে হবে…

এটা করার পর কার কি অনুভুতি হয়েছে, লিখে জানাবেন মায়ের অনুভুতি সহ।

মায়ের প্রতি ভালোবাসা একদিনের জন্য নয় কিন্তু একদিন একটু বেশি ভালোবাসা যেতেই পারে।

এক সময় এই অতিরিক্ত ভালোবাসা আপনার অভ্যাসে পরিনত হবে। তখন আপনার সাথে ঘটতে থাকবে ম্যাজিক, চমক ও সৌভাগ্য !

সেশান ৩৮. পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ কাজ হচ্ছে অন্যের সমালোচনা করা।

আপনার অনেক অনেক কাজ ও কথার মাঝে খোঁচা মারার জন্য ঐ শব্দটা খুঁজবে, পেলেই একটা বিজয়ের হাসি হাসবে – “পাইছি”। এক মুহূর্তও দেরী করবে না নেগেটিভ কথাটা বলার জন্য।

নেগেটিভ কাজের জন্য এদের সময়ের কোন অভাব নাই। নিজের ক্ষুদ্রতা এদের নিজের চোখে পড়ে না।আশেপাশে এরকম ২-১ জন কে নিয়ে আপনার চলতে হয়, প্রায়ই দেখা হয়ে যায়।

জাস্ট ইগ্নোর দেম। রাস্তায় ডাস্টবিন দেখলে আমরা যেমন নাকে হাত দিয়ে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে দ্রুত ঐ স্থান ত্যাগ করি, ঠিক তাই করুন এইসব ক্ষেত্রে। কারণ ঐ ২-১ জন মানুষের আপনার জীবনে কোন প্রয়োজন নাই। তাঁরা আপনার জীবনে বিরক্তি ছাড়া কোন স্মাইল দিতে পারবে না।

কেউ কেউ আবার অন্যের ভালো দেখে জ্বলে উঠেন, নিজেকে বদলাতে নয়, নিজের সময় নষ্ট করে অন্যের সমালোচনা করতে। নিজের সময় নষ্ট মানে নিজেরই ক্ষতি। পারলে জ্বলে উঠুন নিজেকে বদলাতে!

আপনাকে কেউ ছোট করছে বা অপমান করছে, করতে দিন। মুখে জবাব দেয়ার দরকার নাই, আপনার কাজ ও সফলতাই পারে তার মোক্ষম জবাব দিতে।

কেউ আপনার সমালোচনা করছে, করতে দিন। ভাবা শুরু করুন আপনার জীবনের পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছে, যা আপনি দেখার আগে তারা দেখে ফেলেছে।

এবার শুধুই এগিয়ে যাবার পালা।

সেশান ৩৯. এফ-কমার্স বা ফেসবুক পেজ খুলে ব্যবসার কিছু নিয়মঃ

আপনি যে বিজনেসই করেন না কেন আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের একটা ফেসবুক পেইজ এবং সম্ভব হলে ওয়েব সাইট করবেন – এতে আপনার পণ্যের বিক্রির বাজারটা অনেক বড় হবে।

এফ-কমার্স বা ফেসবুক পেজ খুলে ব্যবসার কিছু নিয়মঃ

ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আপনার পছন্দসই কোন ব্যবসা করা যায়।এটাকে বলতে পারেন ফেসবুকভিত্তিক ইকমার্স ব্যবসা। হোক সেটা কোন বুটিক বা ক্রাফট শপ বা হোমমেড ফুড বা সুপার শপ যেকোনো ব্যবসা যেটি আপনি ভালভাবে করতে পারবেন বলে মনে করেন। এই ব্যবসায় পুঁজি লাগে খুবই কম লাগে।

১. একটু ভালভাবে জেনে আপনিও কর্মসংস্থানের ভাল একটা উপায় বের করে নিন।

২. আমাদের দেশে বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রায় ৩.৫ কোটি যেখানে ২০০৯ সালে ছিল মাত্র ১ লাখ। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এখানে আপনার ক্রেতার অভাব নাই, অভাব আছে শুধু বিশ্বস্ত এফ– কমার্স উদ্যোক্তার।

৩. এই ব্যবসায় আসতে হলে আপনাকে ব্যবসায়িক ধারণাটা খুবই ভাল রাখতে হবে। এই জন্য ব্যবসায় নামার আগে যত পারেন এই ব্যাপারে জানার চেষ্টা করুন।

৪. মনে রাখবেন এইখানে অর্থগত ইনভেস্টমেন্টের চেয়ে জ্ঞানগত ও বুদ্ধিগত ইনভেস্টমেন্ট বেশি দরকার।

৫. যেভাবে পেজ খুলবেন: এই পেজ যে কোন বয়সের যে কেউ খুলতে পারবেন। এর জন্য আলাদা কোন পেপারস লাগবে না।শুধু লাগবে আপনার ফেসবুক আইডি।

৬. প্রথমে আপনার ফেসবুক আইডি থেকে নিচের ঠিকানাটি আপনার আইডির সার্চ অপশানে লিখে এন্টারচাপুন:
www.facebook.com/pages/create

অথবা কোন একটা পেজে গিয়েও create page অপশান পাবেন। সেখানে ক্লিক করুন।

৭. এরপর যে উইন্ডো ওপেন হবে সেখানে নিচের কিছু ক্যাটাগরি পাবেন।
– Local business or Place
– Company, Organization or Institution
– Brand or Product
– Artist, Band or Public Figure
– Entertainment
– Cause or Community

আপনি যেটা করতে চান সেই ক্যাটাগরিতে ক্লিক করার পর এক বা একাধিক অপশান আসবে। সেগুলোতেপ্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে Get Started বাটনে ক্লিক করুন। এর পর যে অপশান গুলো আসবে তা পুরন করেফেলুন।

৮. এরপর পোফাইল পিক আপলোড দিয়ে Basic Info এর ঘর গুলো পুরন করুন। About অংশে আপনারব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের বর্ণনা দিন। এরপর Continue বাটনে ক্লিক করুন। এইবার আপনার পেজ তৈরি হয়েগেল।

৯. আপনার পেজে কোন পরিবর্তন করতে চাইলে Edit Page অপশান থেকে যে কোন সময় এডিট করতেপারবেন।

আপনিও চাইলে খুব দ্রুত শুরু করে দিতে পারেন এফ–কমার্স ব্যবসা। একটু চোখ কান খোলা রেখে মার্কেটের খোঁজ খবর নিয়ে শুরু করে দিন এখনই।

সেশান ৪০. Project Proposal বা বিজনেস প্রপোজাল

আপনাদেরকে ব্যাংক বা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বা যে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে লোণ বা ফান্ড নিতে হলে বা পার্টনার নিতে হলে আপনার স্বপ্নের প্রোজেক্ট বা বিজনেস বা আইডিয়ার একটা প্রপোজাল বানাতে হবে।

কি কি থাকবে Project Proposal বা বিজনেস প্রপোজাল এ?
– Name of a Company
– Mision & Vision
– Product & Services of the Company
– What is the Strengths & Weakness
– Project Cost
– Sources of Fund
– Shareholding & Partners
– Market Study
– Marketing plan
– Assets & liability
– Projected Revenue & expenses for next 3 years
– Human resources
– Working Capital till BEP
– Timeline to start & finish the job
– Return on Investment (ROI)

এছারাও যারা professionally বানাতে চান, Cash Flow Statement ইত্যাদি যুক্ত করে এটাকে আরো রিচ করতে পারেন। আমি একটা ফরমেট দিয়ে দিবো।

এটা বুঝতে বা কারো কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান, আমি লাইভ করে রিপ্লাই দিবো।
I will make it simple যাতে যারা BBA/MBA পড়ে নাই তারাও বুঝতে পারে ও তৈরি করতে পারে।

সেশান ৪১. প্রোজেক্ট প্রপোজালের ৩ টি সেম্পল

প্রোজেক্ট প্রপোজালের ৩ টি সেম্পল দিলাম (সংযুক্ত)।
১। একটা পাওয়ার পয়েন্টে (48a post)
২। একটা ওয়ার্ড ফাইলে (এখানে) এবং
৩। একটা এক পাতার (এটা শুধু পার্টনার নেয়ার ক্ষেত্রে সহজে বোঝানোর জন্য দেয়া যেতে পারে) (48b post)

Project Proposal Sample

Fast_Food-Shop

Project Proposal Sample

সেশান ৪২. “বলা যত সহজ করা তত কঠিন”

এই কথাটি প্রায়ই আপনার সামনে ছুঁড়ে দেয়া হয় যাতে আপনি শুরুতেই ভয় পেয়ে যান এবং শুরু না করতেই ছেড়ে দেন। এটা দুর্বলদের কথা।

যে নিজে কিছু জানে না ও পারে না সে আপনাকেও কিছু জানতে বা করতে দিবে না – এটাই এখানে নিয়ম। যে কোন কিছু অর্জন করা সহজ – এটা কে বলেছে? অবশ্যই কঠিন, কঠিনকে জয় করাই হল আসল চ্যালেঞ্জ।

যেটা সহজে পাওয়া যায় তাকে অর্জন বলে না এবং সেই অর্জন ধরে রাখার বা রক্ষা করারও কোন তাগিদ থাকে না। আপনি যখন সফল অবশ্যই তখন তা বলা খুব সহজ।

সমালোচনা করছে, করতে দিন। ভাবা শুরু করুন আপনার জীবনের পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছে, যা আপনি দেখার আগে তারা দেখে ফেলেছে। এবার শুধুই এগিয়ে যাবার পালা।

লেগে থাকুন, জয় হবেই।

সেশান ৪৩. স্টার্টআপ ফান্ডিং আইডিয়া

কিছু কিছু নিয়ম তরুণদের ভেঙ্গে ফেলতে হবে…

মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত পরিবারে শুধু নিয়ম রক্ষার স্বার্থে বিয়ের খরচের নামে তার কোমর ভেঙ্গে দেয়া হয় ক্যারিয়ারের শুরুতেই। কেন এক একটা বিয়েতে এত টাকা খরচ? লোক দেখানো? অন্যদের খুশী করার জন্য?

লোণ নিয়ে অথবা এতদিনের সমস্ত সঞ্চয় বিলিয়ে দিয়ে বিয়ের এত আয়োজন কেন? বিয়ের ৩ মাস পর আপনার সংসারের মাসের খরচের টাকা মিটাতে যখন আপনি হিমশিম খান বা খাবেন, তখন ঐ আনন্দের লেশ মাত্র আপনাকে স্পর্শ করবে?

আমি মোটেও বলছি না যে আপনি বিয়েতে খরচ করবেন না। কিন্ত যা হচ্ছে সবার মন রক্ষার্থে, তার তিন ভাগের একভাগ খরচ করেও বিয়েতে আনন্দ করা যায়। বরং ঐ টাকাটা আপনি নিজে বা আপনার বাবা-মাকে বলতে পারেন, বিয়েতে কম খরচ করে ঐ টাকাটা আপনাকে দিতে, যা আপনি আপনার নতুন বিজনেসের মুল্ধন হিসাবে কাজে লাগাতে পারেন। শুরু করতে পারেন নতুন একটা কিছু।

যাদের অনেক টাকা আছে তাদেরকে কিছু বলছি না, তবে আপনিও ভাবতে পারেন, কিছুটা কম খরচ করে বাকী টাকাটা দিয়ে কোন অসহায় মানুষকে একটা ঘর করে দেয়া যায় কিনা বা একটা অসহায় বাবার মেয়েকে বিয়ের খরচ দিয়ে দেন। এটা করে আপনার বিয়েতে ২০০০ লোক খাওয়ানোর চেয়ে বেশী আনন্দ পাবেন।

আপনি হয়ত বলবেন, বিয়ে তো মানুষ জীবনে একবারই করে! এটা মনে রাখার জন্য একটু আড়ম্বর হওয়া দরকার। বিয়ে বা হানিমুন একদিনের কোন বিষয় নয়। জীবনটা সেভাবে সাজানো উচিৎ যাতে সারাজীবন ভালো থাকা যায় ও একসাথে থাকা যায়। জানেন তো সংসারে অভাব থাকলে ভালবাসা জানালা দিয়ে পালায়। এটা আপনি আপনার হবু বউের সাথে ও আলাপ করতে পারেন। সে যদি আপনাকে ভালোবাসে, নিশ্চয়ই একমত হবে।

আপনার ঐ একদিনের আড়ম্বর আপনাকে সারাজীবন ভালো থাকা থেকে বঞ্চিত করতে পারে। বিয়েতে কম খরচ করে ওটাকে আপনার বিজনেসের জন্য প্রাথমিক মুল্ধন হিসাবে নিয়ে, নিজের কিছু একটা শুরু করুন।

৫ বছর পর, প্রতি বছর আপনার ম্যারেজ ডে করুন, ঘুরতে যান, প্রতি মাসে হানিমুন করুন কারণ তত দিনে আপনি শক্ত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যাবেন। একদিনের জন্য যাকে সাজাতে চাচ্ছেন, তাঁকে প্রতিদিন যাতে সাজিয়ে রাখতে পারেন সেই ব্যবস্থা করুন।

সেশান ৪৪. নো সর্টকাটস, সময় নিন… সময় দিন... সময় বদলাবে... সময়ই সব ঠিক করে দিবে...

এই রকম কারো সাথে হয়েছে যে life is bed of Roses? কারো জীবনে কোন সমস্যা নাই ?

এটা অসম্ভব। সমস্যা থাকবে এবং মানতে হবে সমাধানও আছে। শুধু সময়ের ব্যাপার।

জীবনে নানান রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে আপনি যান – পারিবারিক সমস্যা, ব্যবসায়িক সমস্যা, অফিসের বস বা সহকর্মীর সাথে সমস্যা, অর্থনৈতিক সমস্যা, বন্ধু-বান্ধব সম্পর্কিত সমস্যা, প্রেম ঘটিত সমস্যা, অসফলতা ইত্যাদি।

এইসব সমস্যার কারনে ২টা ঘটনার সম্মুখীন হতে পারেন আপনি – আপনি ভেঙে পরতে পারেন অথবা সমস্যা মোকাবেলা করে আপনি আরো শক্তিশালি হতে পারেন।

সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে, সমস্যা থেকে পালিয়ে বেড়ালে কোনদিন সমাধানের দরজা খুলবে না। কোন বিষয়ে দ্রুত রিয়েক্ট না করে একটু সময় নেয়া যেতে পারে। এবং সমাধান আপনার কাছেই।

সবসময় জিততে হবে, ভাল থাকতে হবে এই মানসিকতা আপনাকে অসুস্থ করে তুলবে। হেরেও জয়ী হওয়া যায় কখনো কখনো। আবার কোন কোন হার নতুন পথ দেখায়।

নো সর্টকাটস, সময় নিন… সময় দিন… সময় বদলাবে… সময়ই সব ঠিক করে দিবে…

সেশান ৪৫. সহজ ও সোজা ভাবনা প্রতিদিন।

আপনাকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে মানে নিশ্চিত ভাবে আপনি কিছু করছেন আলোচনা করার মত। হিংসা, জিদ, অহংকার, সমালোচনা (দরকার নাই তবুও) মানুষকে প্রতিদিন ছোট করে, কিছুই দেয়না। বরং ওই সময়টা নিজের বিনোদন ও সৃজনশীল কাজে লাগানো যেতে পারে।

আরেকজনের ভালো দেখে খুশী হতে অসুবিধা কি? একদিন আপনার ভালো কিছু দেখলে তিনিও খুশী হবেন। খুশী হতে না পারলে চুপ করে থাকুন, নিজেকে সেই জায়গায় নিয়ে যান।
কারো হিংসা করেছেন তো, তার উপকার করেছেন। কারণ সে হিংসা করতে করতে সময় নষ্ট করবে আর আপনি কাজ করতে করতে এগিয়ে যাবেন।

কারো উপকার করতে নাও পারেন, ক্ষতি বা বদনাম করার কি প্রয়োজন! প্রাপ্তিটা কি? এটা একটা অসুখ – এটা মেনে নিলে, এ রোগ থেকে মুক্তির উপায় পাওয়া যাবে। নেগেটিভ শুধু নেগেটিভের জন্ম দেয়। আপনি যত নেগেটিভ ভাববেন তত বেশী নেগেটিভ জিনিস আপনার সামনে এসে দাঁড়াবে বার বার।

জীবনে বড়, সফল ও সুখী হবার জন্য পজিটিভিটির কোন বিকল্প নাই। আজকের জন্য বেঁচে থাকার অভ্যাস করুন। গতকাল আর কখনোই ফিরে আসবে না।

আর আজকের দিনটা দারুণ হলে আগামীকালটাও রঙিন হবে।

সেশান ৪৬. যে জিতবে সে বার বার পরবে, আবার উঠে দাঁড়াবে – বলবে, আমি খেলবো

১ ওভার এ আপনার ৬ টা বল ঃ

– আপনি আউট হয়ে যেতে পারেন,
– আপনি কোন রান ছাড়া কোন ভাবে বেঁচে থাকতে পারেন,
– আপনি ১ রান করতে পারেন,
– বা ২-৩-৪ বা ৫ রান ও করতে পারেন,
– আবার প্রতি বলে ১ রান নিয়ে আপনি ৬ রান ও করতে পারেন,
– আপনি ১ টা ছক্কা ও একটা 8 মেরে ১০ রান করতে পারেন,
– আবার ৬ ৬ ৬ ৬ মেরে ২৪ রান ও করতে পারেন
– ৩৬ রানও সম্ভব……

আপনিই ঠিক করুন আপনি কি চান এবং নিজেকে কোথায় দেখতে চান…

একবার বা দুবার না পারা মানে এটাই জীবনের শেষ হয়ে যাওয়া বা হেরে যাওয়া নয়, ভাবুন ৫০ ওভারের মধ্যে প্রথম ওভারের ২য় বল টা আপনি মিস করেছেন…আপনার জীবনে খেলার জন্য আরও ২৯৮ টা বল আছে……

যে জিতবে সে বার বার পরবে, আবার উঠে দাঁড়াবে – বলবে, আমি খেলবো

সেশান ৪৭. বিজনেস আইডিয়া

ভাবনা শুরু করুন যারা এটা নিয়ে কিছু করতে চান। এটাকে কিভাবে সহজ করা যায়, দাম কমানো যায় কোয়ালিটি ঠিক রেখে এবং অনলাইনে বিজনেস টা করা যায়…… সব আপনি শিখে ফেলেছেন ইতিমধ্যে।

সেশান ৪৮. One Page Project Proposal - Sample & Simple

সেশান ৪৯. Sample of Project Proposal

সেশান ৫০. কিভাবে বিজনেস শুরু করবো বা কি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে কাজ শুরু করবো?

কিভাবে বিজনেস শুরু করবো বা কি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে কাজ শুরু করবো? এই প্রশ্নটা সবার !

আমার উত্তর একটাই অর্থাৎ একটাই ফর্মুলা “প্রেম করা শুরু করেন”।

কোন মেয়ে কে ইম্প্রেস করার জন্য কি কি না করেন আপনারা, কত রকমের ফর্মুল বের করেন তাকে ইম্প্রেস করার জন্য।

বৃষ্টিতে ভিজেন, রোদের মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন, এরকমও বলে ফেলেন – পাহাড় থেকে লাফ দিবো, সাগর পাড়ি দিবো। সবচেয়ে সুন্দর ড্রেস টা পরেন, দামী দামী গিফট দেন, প্রেম করার সময় কেউ ঘড়ি দেখা বা সময় দেখা পছন্দ করেন, পারলে ২৪ ঘণ্টাই প্রিয় মানুষের সাথে থাকেন। মেয়েরাও একই রকম ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকেন।

এই আবেগ, এই ভালোবাসা, এই প্রেম, এই লেগে থাকা, এই উচ্ছ্বাস, এই, খুশী এবং এই কষ্ট আপনি আপনার ভালোলাগার বিজনেস কনসেপ্টে ঢেলে দিন – আপনার সফলতা কে ঠেকায়।

সেশান ৫১. বিক্রয়ে সফলতার জন্য দরকার শুধু নেটওয়ার্ক বাড়ানো

শুরু করার পর ৭ দিনেও যদি কোন সেল না হয়, হতাশ হবেন না। প্রয়োজনে ৭ মাস লেগে থাকুন, কাস্টমার পাবেনই, যদি প্রোডাক্ট মানসম্পন্ন হয়।

গ্রামীণ ফোন শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও প্রথম যখন বাজারে আসে, প্রথম ১০ দিন তাদের ছিল জিরো সেল। আমার কোম্পানির সেল শুরু হয় কোম্পানি শুরু করার প্রায় ৯০ দিন পর, তাও খুবই পুওর সেল!

কাস্টমারের কাছে পোঁছানোর জন্য নাম্বার বাড়ান, দিনে ১০ জনের কাছে গিয়ে যদি ১ টাও সেল না হয় তবে একদিনে ২০ জনের কাছে পোঁছান, প্রয়োজনে ২০০টা হিট করুন… সেল হবেই।

সেশান ৫২. উদ্যোক্তা উধাহরণ

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুমারগাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের সাত-আট বছর আগেও দু-একটি গরু ছিল। শখের বশে গরু পালন করতেন তিনি। পরে তিনি কৃষিকাজ বাদ দিয়ে গরু পালতে শুরু করেন।

এখন তাঁর ১২টি গরু। এই গরুই তাঁর সংসারের সব খরচের উৎস। কোরবানি ঈদ এলে তাঁর একেকটা গরুর দাম হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। সেই লাভ দিয়ে তাঁর সারা বছর চলে যায়। এখন তিনি স্বাবলম্বী।

শুধু রবিউল একা নন, তাঁর মতো এখন অনেকে কৃষিকাজ ছেড়ে খামারের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে তাঁর মতো এখন অনেকে ভূমিকা রেখে চলেছেন।

প্রাণীর নতুন নতুন জাত সৃষ্টি হওয়ার কারণে গত কয়েক বছরে দেশের মাংস, দুধ, ডিমের মতো প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বেড়েছে।

সেশান ৫৩. উদ্যোক্তা উধাহরণ - ২

অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার পূর্ব চরকৃষ্ণপুর গ্রামের দুলাল মিয়া। তারপর কখনো জুতার ব্যবসা, কখনো চাষবাস করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। এতে জীবনের চাকা ঘুরলেও সাফল্য ধরা দেয়নি দুলাল মিয়ার জীবনে। শেষ পর্যন্ত ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ছেলের পরামর্শ ও সহায়তায় বছর দুয়েক আগে টার্কির খামার দেন দুলাল মিয়া। আর এরই মধ্যে তাঁর মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

দুলাল মিয়া বলেন, তাঁর ছেলে হেলাল মিয়া চাকরির সুবাদে ঢাকার সাভারে গিয়ে টার্কির কথা জানতে পারেন। পরে নিজে টার্কি পালনের ওপর প্রশিক্ষণ নেন আর বাড়ি ফেরার সময় এ মুরগির ৩০টি বাচ্চা নিয়ে আসেন। বাবাকে বাণিজ্যিকভাবে এ মুরগির খামার করার পরামর্শ দেন। সেই শুরু। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। টার্কির খামার করতে বাচ্চা কেনাসহ দুলাল মিয়ার তখন মোট ব্যয় হয় ৬৩ হাজার টাকা। দুই বছরের মাথায় এখন তিনি প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালিক।

চরকৃষ্ণপুর মাতব্বরবাড়িতে দুলাল মিয়ার খামার ঘুরে জানা যায়, এরই মধ্যে ওই ৩০টি টার্কি থেকে ১ হাজারটি মুরগি উৎপাদন করেছেন দুলাল মিয়া। এর মধ্যে ৫০০ মুরগি ও ডিম বিক্রি করে এ পর্যন্ত আয় করেছেন প্রায় ৭ লাখ টাকা। এখনো খামারে আরও ৫০০ টার্কি রয়েছে, যার দাম প্রায় ৮ লাখ টাকা।

দুলাল মিয়া বলেন, বর্তমান বাজারে টার্কির এক হালি ডিম ৬০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এক দিনের এক জোড়া টার্কির বাচ্চা তিনি বিক্রি করছেন ৫০০ টাকায়। এক মাসের এক জোড়া বাচ্চা ১ হাজার ৪০০, দুই মাসের এক জোড়া ২ হাজার ২০০, সাত মাসের এক জোড়া ৫ হাজার এবং দুই বছরের এক জোড়া মুরগি বিক্রি করছেন ১০ হাজার টাকায়। দুই বছরের মুরগি ৫ থেকে ৬ ও মোরগ ১১ থেকে ১২ কেজি ওজনের হয়।

দুলাল মিয়ার ছেলে হেলাল বলেন, তিনি ২ হাজার ১০০ টাকা করে দুই মাস বয়সী টার্কির ৩০টি বাচ্চা কিনে এনেছিলেন। তাঁর পরামর্শে তাঁর বাবা এ মুরগির পাশাপাশি ৫০টি চায়না ও ৫০টি দেশি মুরগির খামার করেন। তিনি আরও বলেন, টার্কি ডিম পাড়লেও বাচ্চা ফোটাতে দেশি মুরগির সহায়তা লাগে। এ জন্য টার্কির বাচ্চা উৎপাদন করতে দেশি মুরগির সহায়তা নিতে হচ্ছে। প্রতিদিন এসব মুরগি পাললে তাঁদের তিন থেকে চার হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানান হেলাল।

দুলাল মিয়া বলেন, টার্কি মূলত শাকসবজি খেলেও তিনি এর পাশাপাশি উন্নত মানের বয়লার ফিডও দিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি ছোট ছোট পাঁচটি খামার করে আলাদা আলাদাভাবে এসব মুরগি পালছেন।

সেশান ৫৪. উদ্যোক্তা উধাহরণ ৩

উচ্চশিক্ষিত তরুণ শাহ আবু সাঈদ চৌধুরী। চাকরি ছেড়ে ২০১৬ সালে চলে যান নিজ এলাকা নওগাঁর পোরশা উপজেলার পোরশা গ্রামে। প্রথমে নিজেদের বাগানে শুরু করেন আম চাষ। সাফল্য পেয়ে পরে অন্যের বাগান লিজ নেন। দুই বছরের মধ্যে তার বাগানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ টি। এখানেই শেষ নয়; গড়ে তোলেন ‘বারিন্দুল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ফরমালিন ও বিষমুক্ত আম বাজারজাত করা যার লক্ষ্য। ফরমালিনমুক্ত আম বাজারজাতের জন্য সামাজিক আন্দোলনও করছেন তিনি।

কর্মদীপ্ত যুবক শাহ আবু সাঈদ চৌধুরী সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে বিএসএস (স্নাতক) ও ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে এমএসএস (স্নাতকোত্তর) করেছেন। বছরখানেক ঢাকায় চাকরি করেছেন একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে। কিন্তু সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজে কিছু করার প্রত্যয়ে নেমে পড়েন আম চাষে।

মৌসুমী ফলে রাসায়নিক ব্যবহার বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আবু সাঈদের প্রতিষ্ঠান বারিন্দুল। গোপালভোগ, হিমসাগর, খিরশাপাতি, ল্যাংড়া, ফজলি ও আম্রপলিসহ নানা জাতের প্রাকৃতিকভাবে গাছে পাকা আম গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে বারিন্দুল। মূলত অনলাইনে অর্ডার নেয়া হয় এই প্রতিষ্ঠানে। সাঈদ জানান, আম জোরে রাখা বা বাইরে থেকে কোনো চাপ পড়লে আমের স্বাদের উপর প্রভাব পড়ে। তাই পরিবহনে যেন আমের ক্ষতি না হয় সেজন্য বারিন্দুল প্লাস্টিকের ক্যারেটে করে আম ডেলিভারি দিয়ে থাকে।

অতিরিক্ত লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা মৌসুম শুরুর আগেই রাসায়নিক ব্যবহার করে আম পাকায়। কিছু রাসায়নিক ব্যবহারের আম ঝকঝকে থাকে। জুন মাসের আগে যেসব আম বাজারে আসে, এসব আম ফরমালিন ব্যবহার করে পাকানো হয় বলে জানান এই তরুণ। তিনি বলেন, মূলত আম পাকা শুরু হয় মে মাসের শেষ সপ্তাহে। চলে জুলাই পর্যন্ত। এর আগে যেসব আম বাজারে আসে, সবগুলো রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো হয়। যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

শাহ আবু সাঈদ চৌধুরী ব্যবসা করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তার ২৭টি বাগানে অর্ধশতাধিক মানুষ কাজ করে। আমের জন্য অনলাইন কিংবা মোবাইল ফোনে বেশি অর্ডার বেশি পেয়ে থাকেন। অনলাইনে অর্ডার দিতে চাইলে ফেইসবুকের বারিন্দুল পেইজে গিয়ে অর্ডার দেয়া যায়। গত বছর দুই হাজার মণ আম বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

সাঈদ বলেন, সবাই যেন ফরমালিন ও বিষমুক্ত আম খেতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। নৈতিকতার জায়গা থেকে মূলত আমার এই উদ্যোগ। এজন্য অতি অল্প সময়ে মানুষের কাছ থেকে সাড়াও পেয়েছি। মানুষের আস্থা দিন দিন বাড়ছে।

তিনি বলেন, চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার কারণে অনেক মানুষকে চাকরি দিতে পেরেছি। এই ধরণের উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের মানুষ নিশ্চিন্তে ফ্রেশ আম খেতে পারছে। যেহেতু এই এলাকার আম খুব সুস্বাদু, তাই সহযোগিতা পেলে বিদেশেও আমরা আম রপ্তানি করতে পারব। তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের চাকরি করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। শিক্ষিতরা ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসলে ব্যবসা বা পণ্যের গুণগত মানও বৃদ্ধি পাবে।

সেশান ৫৫. উদ্যোক্তা উধাহরণ - ৫

উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বললে, বেশির ভাগের কাছ থেকে উত্তর পাওয়া যায়, ‘একেবারে শূন্য হাতে শুরু। উদ্যোক্তা হতে হলে পুঁজি লাগে না, আইডিয়াই সব।’ কিন্তু এর সঙ্গে দ্বিমত করলেন মাহমুদুল হাসান সোহাগ। বললেন, অবশ্যই পুঁজি লাগে। আমি শুরু করেছি ৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে!

শুনে ধাক্কা লাগে। তবে ব্যাখ্যা শুনে আবার স্বস্তি পাই। “এই টাকা ছিল আমার মস্তিষ্কে। কারণ, নিউরোসাইন্টিস্টদের ভাষ্য মতে, একটি কম্পিউটারের বিপরীতে একজন মানুষের মস্তিষ্কের দাম কমপক্ষে ৫ হাজার কোটি টাকার সমান। এই টাকা মাথায় রেখে নগদ ৬,০০০ টাকা নিয়ে আমার উদ্যোক্তা হওয়ার পথে যাত্রা শুরু”। তিনি মনে করেন, প্রতিটি মানুষই ৫ হাজার কোটি টাকার অধিকারী। কেবল এর ব্যবহার জানতে হবে।

মাহমুদুল হাসান সোহাগ একজন তড়িৎ প্রকৌশলী (ইইই, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট)। বর্তমানে তিনি “অন্যরকম” গ্রুপের চেয়ারম্যান। ভিন্ন ধারার শিক্ষার্থী তৈরির জন্য তিনি গড়ে তুলেছেন একাডেমিক কেয়ার উদ্ভাস, ঘরে ঘরে বই পৌঁছে দিতে খুলেছেন ই-কমার্স সাইট রকমারি ডট কম, তৈরি করেছেন গবেষণাগার পাই ল্যাবস, ভিন্ন রকম সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান অন্যরকম সফটওয়্যার।

আমি বুয়েটে পড়েছি। একজন প্রকৌশলী হয়ে চাকরি-বাকরি করে আমার জীবন কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু আমার আগ্রহ ছিল ‘প্রবলেম সলভ’ করার দিকে। যেহেতু বাংলাদেশে সমস্যা অনেক বেশি তাই উদ্যোক্তার জন্য কাজের সুযোগ অনেক বেশি। আর এত এত সমস্যা পাড়ি দিয়ে আমাদের দেশের লোকজন এগিয়ে যাচ্ছে যে প্রেরণা খুঁজে নেওয়া খুব সহজ।

উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে আমার ব্যক্তি দর্শন হলো, কী নেই ওইদিকে তাকানো যাবে না। কী আছে ওইদিকে তাকাতে হবে। ‘কী নেই, কী নেই’ চিন্তা করলে তো আমাদের স্বাধীনতাই আসতো না। কারণ, ১৯৭১-এ আমাদের কিছুই ছিল না। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য খুবই জরুরি, যা আছে তাই নিয়ে ভাবতে হবে ও এবং ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

সেশান ৫৬. নিজেকে জিজ্ঞেস করুন

৯৫% বিজনেস অসফল হওয়ার মূল কারণ lack of passion অর্থাৎ লেগে থাকতে না পারা।

নিজেকে জিজ্ঞেস করুন:
আপনি কি করতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন?
আপনার প্যাশন কি?
আপনার স্কিল কোথায়?

ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আপনার উদ্যোক্তা না হয়ে উঠা আপনার সম্ভাবনার এক চরম অপচয়।

সেশান ৫৭. মূলধন নিয়ে যাদের চিন্তার শেষ নাই...

বিয়ে করার জন্য যেভাবে টাকা জোগাড় হয়, বড় কোন বিপদে পড়লে যেভাবে টাকার সংস্থান হয়, ঠিক একই দৃঢ়তা, পরিকল্পনা, আইডিয়া ও ধৈর্য নিয়ে চেষ্টা করলে নিজের বিজনেসের টাকাও
জোগাড় হয়ে যাবে। কিন্তু লেগে থাকতে হবে প্রতিদিন।

সাহস করুন এবং শুরু করুন। ব্যতিক্রমী আইডিয়া বের করুন, ইতিমধ্যেই জেনেছেন উদ্যোক্তা হবার জন্য কি কি দরকার।

উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য মুল্ধন বা ফান্ড একটা বড় সমস্যা এটা বাস্তবতা। কিন্তু এটা যদি মনে করেন বিজনেস করতে হলে অনেক টাকা দরকার, তাহলে কোনদিন শুরুই করা হবে না।

অল্প পুঁজি দিয়ে ছোট করে শুরু করুন – একদিন অনেক বড় হবেন।

সেশান ৫৮. কোটি টাকার মূলধন আছে আপনার কাছে – নিজের দিকে তাকান

কোটি টাকার মূলধন আছে আপনার কাছে – নিজের দিকে তাকান

1. Be Trusted
2. Be Dedicated
3. Be Comitted
4. Be Harworking
5. Be Good Human
6. Be connected & do Networking from Student life

এগুলু আপনাকে আপনার বিজনেসের জন্য মুল্ধন যোগাতে ব্যাপক সাহায্য করবে।

সেশান ৫৯. নিজেকে সিইও বলবেন না অন্তত প্রথম ২ বছর

সফল উদ্যোক্তা হতে হলে অন্তত প্রথম ২ বছর নিজেকে সিইও ভাববেন না, কর্মী হয়ে যান। টিম মেম্বার হয়ে যান, তাদের চেয়ে বেশী কাজ করুন।

যেদিন থেকে আপনার উদ্যোগ লাভের মুখ দেখা শুরু করবে, সেদিন থেকে আস্তে আস্তে আপনি ভাবতে শুরু করবেন যে, আপনি একটা টিম লিড দিতে পারেন।

প্রতিদিন তাদের আগে অফিসে যাবেন এবং তাদের পরে অফিস থেকে বের হবেন। তখন আপনার সহকর্মীদের মধ্যে কাজের প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যাবে। আপনার সহকর্মীদের অর্ডার দিয়ে যতটা আউটপুট বের করতে পারবেন, মাথায় বা কাঁধে হাত রেখে বললে তার চেয়ে দ্বিগুণ–তিনগুন বেশী কাজ করবে।

Be your BOSS but be the LEADER & Guardian of your Colleagues

সেশান ৬০. উদ্যোক্তা …এর চেয়ে ভালো দেশ সেবা আর কিছু হতে পারে না !

কর্ম সংস্থান সৃষ্টি
– কয়েকটা বা অনেকগুলু পরিবারের হাসি
– সরকারকে ভ্যাট ও ট্যাক্স – দেশের উন্নয়নে অংশীদার হওয়া
– নিজের জীবন মান উন্নয়ন, তাতে সামাজিক কার্যক্রমেও অংশীদার হওয়া।

আর আমরা তো সবাই ভালমানুষ হয়েই গেছি ইনশাল্লাহ – এখন শুধু এটা ধরে রাখতে হবে সব সময়।

সেশান ৬১. বিজনেসটা কিছু দিন চালানোর পর যে যে কারনে বন্ধ হয়ে যায় বা ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হয়

বিজনেসটা কিছু দিন চালানোর পর যে যে কারনে বন্ধ হয়ে যায় বা ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হয়ঃ
১। ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অভাব বা রানিং ক্যাশ এর সঙ্কট
২। ভুল প্রোডাক্ট নির্বাচন
৩। সঠিক মার্কেটিং প্ল্যান না করা ও মার্কেটিং বাজেট না থাকা
৪। Team Work না থাকা
৫। কাস্টমার কেয়ারিং ও শেয়ারিং এর অভাব
৬। দক্ষ জনবলের অভাব – right man in the right place
৭। দুর্বল ম্যানেজমেন্ট
৮। One time Business attitude – অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবনতা

আপনারা সবাই বিষয়গুলু সবসময় মাথায় রেখে কাজ করবেন, আপনার এগিয়ে যাওয়া আপনিও থামাতে পারবেন না।

সেশান ৬২. কিছু পরামর্শ

আপনার দেখতে পাচ্ছেন, যারা গত ২ দিন ধরে নিজেদের প্রোডাক্টের পোস্ট দিচ্ছেন, ইতিমধ্যেই আপনারা একে অন্যের সাথে কেনা-বেচা শুরু করে দিয়েছেন। আমাদের ৬০০০ তারুণ্যের গ্রুপ – এটা একটা বিশাল বাজার হতে যাচ্ছে।
তাই কিছু পরামর্শ ও অনুরোধ:
১। আপনার পোস্ট দিতে থাকেন, আমি এক এক করে পোস্ট দিব, দেরী হলেও মন খারাপ করবেন না কারণ আমি যদি সব পোস্ট একসাথে এপ্প্রভ করি তাহলে আপনাদের মূল্যবান পোস্ট বেশী মানুষ দেখবে না, হারিয়ে যাবে। আমি চাই আপনাদের সবগুলু পোস্ট সবাই দেখুক।
২। নিজের পণ্য বা নিজের বিজনেস নয় এই রকম কোন পোস্ট আমরা দিব না।
৩। এখানে সবাই ভালমানুষ, একজন আরেকজনকে সাহায্য করার তাগিদে ও ভাল বন্ধু হয়ে উভয় পক্ষের লাভ হয় সেভাবে বিজনেস করবেন।
৪। আমরা কখনো নিজেকে ঠকাবো না, অন্যকে ঠকানো মানে নিজেকে ঠকানো।
৫। কোন খারাপ, নিন্ম মানের ও ভেজাল পণ্য আপনারা কেউ বিক্রি করবেন না। আমি জানি আপনারা কেউ তা করবেন না।

৬। রাতারাতি অনেক লাভ হবে এই রকম বিজনেসে ঝাপিয়ে পরবেন না।

৭। লাভ কম ও দীর্ঘ সময় বিজনেসে টিকে থাকা এবং কাস্টমারকে গুরুত্ব দিয়ে বিজনেস করবেন।

আপনারা আপনাদের ক্রেতা ও বিক্রেতা হউন এবং বিনিয়োগকারী হউন।

সেশান ৬৩. একজন উদোক্তা হওয়ার জন্য গত এই প্রশ্ন গুলুর উত্তর আপনি পেয়েছেন?

১. কেন আমি ব্যবসা শুরু করতেছি?
২. আমি কি ধরনের ব্যবসা করতে চাই?
৩. কে আমার কাস্টমার?
৪. কোন ধরনের প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস আমার ব্যবসা প্রদান করবে?
৫. ব্যবসা শুরু করার জন্য যে বিনিয়োগ এবং সময় প্রয়োজন তা ব্যয় করতে আমি কি প্রস্তুত?
৬. বিদ্যমান বাজারের অন্যান্যদের সাথে আমার ব্যবসায় ধারনা এবং প্রোডাক্টস অথবা সার্ভিসগুলোর পার্থক্যসমূহ কি?
৭. আমার ব্যবসায়িক অবস্থান কোথায় হবে?
৮. আমার কতজন কর্মচারী প্রয়োজন?
৯. আমার কি ধরনের সাপ্লাইয়ার প্রয়োজন?
১০. ব্যবসা শুরু করার জন্য আমার কত টাকা বিনিয়োগ করা প্রয়োজন?
১১. আমার কি ঋণ বা পার্টনার নেওয়া প্রয়োজন?
১২. আমার প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিসগুলো সহজলভ্য হতে কত সময় লাগবে?
১৩. ব্যবসা হতে লাভ হওয়ার পূর্বে আমি কত সময় পর্যন্ত ব্যবসা চলমান রাখবো?
১৪. প্রতিযোগীদের সাথে তুলনা করে কিভাবে আমি আমার প্রোডাক্টের মূল্য নির্ধারন করবো?
১৫. কিভাবে আমার ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স নিব?

সেশান ৬৪. নিজের সাথে কথা বলছেন তো প্রতিদিন?

নিজের সাথে কথা বলছেন তো প্রতিদিন? এই অভ্যাস টানা ৬ মাস করুন, আপনার বদলে যাওয়া নিজের চোখেই দেখতে পাবেন।

নিজের সাথে কথা বলতে হবে, নিজেকে সময় দিতে হবে, নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে :

আমি কে?
কি করতে চাই?
কেন করবো?
কিভাবে করবো?

প্রতিদিন অন্তত একটু যোগ করা দরকার উত্তরের জন্য…

সেশান ৬৫. কি কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন?

কি কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন – গত দিনের এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই মুল্ধনের কথা বলেছেন।

বিশ্বাস করেন, আপনাকে কেউ সাহায্য করবে না, যতক্ষণ না আপনি নিজে নিজেকে সাহায্য করেন।

খুব ছোট করে শুরু করেন। আমি ৫০,০০০ টাকা দিয়ে যে বিজনেস শুরু করেছিলাম, ১৫ বছরে তার মূল্য বর্তমানে ১০০ কোটি টাকা। অথচ এই বিজনেস বন্ধ হয়ে যাবার কথা ছিল ১৪ বছর আগে। শুধু লেগে থাকার ও ভালোবাসা ঢেলে দেবার ফলাফল এটা।

বিয়ে করার জন্য যেভাবে টাকা জোগাড় হয়, বড় কোন বিপদে পড়লে যেভাবে টাকার সংস্থান হয়, ঠিক একই দৃঢ়তা, পরিকল্পনা, আইডিয়া ও ধৈর্য নিয়ে চেষ্টা করলে নিজের বিজনেসের টাকাও জোগাড় হয়ে যাবে। কিন্তু লেগে থাকতে হবে প্রতিদিন।

ডেইলি সেভিংসের ৬ টা টিপস ও পার্ট টাইম কাজের কথা মাথায় রেখে টাকা জমান যাতে পরিবার থেকে এখন কিছু ধার নিলেও ১ বছর পর শোধ করে দিতে পারেন। বাবা-মার কাছ থেকে অল্প কিছু টাকা নিন, না হলে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কে আপনার বিজনেসের পার্টনার করুন।

যারা একটু বড় করে করতে চান তারা পার্টনার/ ইনভেস্টার নিন।
আপনার আইডিয়া আপনাকে মুল্ধন দিবে, আপনার সততা ও কমিটমেন্ট হচ্ছে আপনার সবচেয়ে বড় মুল্ধন।

স্বপ্ন দেখুন, সাহস করুন, শুরু করুন এবং লেগে থাকুন…… কেউ আপনাকে আটকাতে পারবে না।

সেশান ৬৬. অকারণে বা ছোট ছোট বিষয়ে সমালোচনা করা - একটি রোগ।

এর শুরু নিজেকে ছোট ভাবা থেকে কারণ তিনি ভেবেই নেন যে তিনি ঐরকম হতে পারবেন না। কোন কারণে সে নিজে খুশি বা সুখী না, তাই আর কাউকে খুশি বা সুখী দেখতে তার ভালো লাগে না। ইসপিস করে কখন খোঁচাটা মারবে!

যিনি এই প্রতিনিয়ত কাজটা করেন, ব্যায়াম ও ডায়েট ছাড়া নিশ্চিত ভাবে তার ওজন কমবে! এই রোগ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় অন্যের ভালো দেখে খুশি হতে শেখা যেটা একদিন তারও হবে। তাকাবেন না, ইগনোর করুন ও নিজের কাজ করে যান।

আজকে খুশি থাকুন, কালকেও আপনার জন্য খুশি অপেক্ষা করছে। তারপর খুশি থাকা অভ্যাসে পরিনত হবে। দুঃখ যদি আসে আসুক, দুঃখ-কষ্টকে জয় করা সহজ হয়ে যাবে। তখন আপনি শুধু নিজের দিকে তাকাবেন, কারো দিকে তাকানোর প্রয়োজন হবে না।

নিজেকে ঐ জায়গায় নিয়ে যান এবং বলার মতো নিজের একটা গল্প তৈরি করুন।

সেশান ৬৭. আমাদের ৬০০০ ভালো মানুষদের কিছু ভাল কাজ আজ থেকে শুরু হউক

আমাদের ৬০০০ ভালো মানুষদের কিছু ভাল কাজ আজ থেকে শুরু হউকঃ

১। রাস্তায় বা পানিতে ময়লা ফেলবো না। চিপস, কলা বা যে কোনো কিছু খেয়ে ওটা হাতে রেখে দিব নির্দিষ্ট জায়গায় বা ডাস্টবিনে ফেলার জন্য।

২। কাউকে বাজে কথা বা বাজে গালি দিব না এবং

৩। প্রতি সপ্তাহে অন্ততঃ ২ জন মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করবো উপরের ২ টা কাজ করার জন্য।

এই একটা কাজ করতেও কোন টাকা লাগবে না, শুধু লাগবে ইচ্ছা।

আপনি বদলে যাবেন, সমাজ টাও বদলে যাবে।

সেশান ৬৮. আপনারা যেই বিজনেসই করুন না কেন

আপনারা যেই বিজনেসই করুন না কেন, ওটাকে ই-কমার্স/এফ-কমার্স এ নিয়ে আসবেন। তাতে আপনাদের পণ্যের বাজার বাড়বে ও অর্ডার বাড়বে। ছড়িয়ে দিতে পারবেন সারা বাংলাদেশে। এমনকি দেশের বাইরেও।

কারণ এখন আপনি আর একা নন, আপনাকে সাহায্য করার জন্য বা আপনার সাথে বিজনেস করার জন্য সারা বাংলাদেশে ও দেশের বাইরে ৬০০০+ আপনার বন্ধু আছে।

এই বন্ধুত্তের সুত্র একটাই – বিশ্বাস করা ও বিশ্বাস রাখা এবং সচ্ছতা। যা আপনাদের সবার আছে। নিজের আপাত ক্ষতি হলেও কমিটমেন্ট রাখতেই হবে, শেষ পর্যন্ত আপনিই জিতবেন।

এবং একটা সময় আসবে, যখন শুধুমাত্র “নিজের বলার মত একটা গল্প” এর সাথে থাকার জন্য সমাজে আপনার একটা আলাদা ইমেজ ও পরিচিতি তৈরি হবে, কারণ সারা বাংলাদেশ জানবে – এরা সবাই ভালোমানুষ।

সেশান ৬৯. প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট হাসা যায় এরকম কিছু করবেন - মন ভালো থাকবে, কাজের গতি বেড়ে যাবে।

প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট হাসা যায় এরকম কিছু করবেন – মন ভালো থাকবে, কাজের গতি বেড়ে যাবে। যেমনঃ

১। হাসির কোন নাটক দেখতে পারেন
২। কমেডি শো দেখতে পারেন (ভাঁড়ামো শো না)
৩। প্রিয় কোন বন্ধুর সাথে মন খুলে আড্ডা দিতে পারেন
৪। কোন খেলাধুলা করতে পারেন
৫। কোন মজার বই পড়তে পারেন

আর এটা সবচেয়ে বেশী বেশী করতে হবে যখন মন খারাপ থাকবে। মন খারাপ হতেই পারে। কিন্তু মন খারাপ লাগাটাকে কখনো বাড়তে দিবেন না। নানা আয়োজনে ব্যস্ত থাকবেন দ্রুত মন খারাপ দূর করার জন্য।

মনে রাখবেন, আপনার মন খারাপ কেউ দূর করতে পারবে না, আপনি না চাইলে। আর মন ভাল রাখতে হবে, বেশী বেশী ভাল কাজ করার জন্য।

মন ভালো থাকলেও হাসতে হবে কিছুক্ষণ প্রতিদিন

সেশান ৭০. আপনার নিজের সাথে ওয়াদা করবেন কে কে?

জীবনের যে কোন পরিস্থিতিতে:
১। সৎ থাকবেন
২। বিশ্বস্থ থাকবেন, বিশ্বাস ভঙ্গ করবেন না ও কাউকে ঠকাবেন না,
৩। আগামী ৫ টা বছর সবকিছু বাদ দিয়ে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা করে কাজ করবেন
৪। সফল না হওয়া পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিবেন না, লেগে থাকবেন এবং
৫। আপনি একজন ভালোমানুষ – এটা সবসময় ধরে রাখবেন।
এই ওয়াদা হবে আপনার নিজের সাথে, আপনার বিবেকের সাথে, আপনার মনে যে একটা “না” বাস করে তাঁর সাথে। এর জন্য প্রয়োজন শুধু ইচ্ছে ও সাহস।

যে কোন পরিস্তিতিতে সৎ ও পজিটিভ থাকা – একটা মানুষকে আমূল বদলে দিতে পারে, আলাদা করে ফেলতে পারে সবার চেয়ে। সাথে পরিশ্রম ও নিষ্ঠা যোগ করলে, সফল হওয়া শুধু কিছু সময়ের ব্যাপার !
এটাই আপনার জীবনের গল্পের শুরু…

সেশান ৭১. অন্য কে ভালোবাসার আগে নিজেকে ভালবাসুন, অনেক বেশী ভালবাসুন।

যে নিজেকে ভালোবাসে তার জীবন সুন্দর হবেই, আর তার আশেপাশে মানুষগুলুর জীবনও সুন্দর হবে। তখন অন্যরাও আপনাকে ভালবাসতে শুরু করবে।

নিজেকে ভালোবাসা মানে নিজে ভাল রাখা বা সুন্দর রাখা, সুতরাং তার পক্ষে অসুন্দর কোন কাজ করা সম্ভবই না।

কারো ক্ষতি করলে বা কারো সম্পর্কে খারাপ কিছু করলে/বললে যে সে নিজেই অসুন্দর হয়ে যাবে – তাহলে তো আর নিজেকে ভালোবাসা হল না।

সেশান ৭২. দুঃখ আছে বলেই সুখ গুলু এতো আনন্দময় হয়...

আমরা বেশীর ভাগ সময় ভালো থাকি, সুখে থাকি কিংবা অতটা খেয়াল করিনা কিভাবে কেটে যাচ্ছে – তার মানে নিশ্চিতভাবে দুঃখে বা কষ্টে থাকি না, কম বা বেশী ভালো থাকি।

কিন্তু অল্প একটু দুঃখ বা কষ্ট পেলেই তা আমরা অনেক বড় করে দেখি। মনে হয় এই বুঝি সব শেষ হয়ে গেলো ! না রাতের অন্ধকার শেষে যেমন সকাল হয়, দুঃখ-কষ্ট ও খারাপ সময়ও সব সময় থাকে না, আসে অল্প সময়ের জন্য।

অনেক সময় তুলনা করতে গিয়ে অকারণে নিজের কষ্ট বাড়িয়ে ফেলেন, যার যা আছে তাই নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করা উচিৎ। মনে রাখবেন আপনার এমন কিছু গুন, যোগ্যতা ও দক্ষতা আছে যা অন্যর নেই।

আপনি একজন ভালো মানুষ – এটাই দিন শেষে অনেক বড় যোগ্যতা।

সেশান ৭৩. আমার শোনা শেষ একটা গল্প বলি আপনাদের....

হাসিব মিয়া #প্রতিদিনই সাভার থেকে ৭০ কেজি দুধ এনে ধানমন্ডির বাসায় বাসায় দিয়ে যায়।

সে ৪০ টাকা করে দুধ কিনলেও ঢাকায় এনে ৮০ টাকায় বিক্রি করে!
দিনে ৩’শত টাকা খরচ বাদ দিলেও তার মাসে ৭৫ হাজার টাকার মত থাকে।

ক্যান ইউ #ইম্যাজিন যে, একজন অশিক্ষিত লোক মাসে ৭৫ হাজার টাকা ইনকাম করছে??

তারেক সাহেব ১.৫ লক্ষ টাকা #এ্যাডভান্স দিয়ে নিউ মার্কেটের দোতলায় একটি দোকানের সামনে বসার অনুমতি নিয়েছিলেন প্রায় ২১ বছর আগে।

মাসে ভাড়া দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। তিনি সেখানে বসে প্যান্ট শার্ট ছোট করা সহ টুকটাক সেলাইয়ের কাজ করেন।
এই ২১ বছর দর্জির কাজ করে #সায়দাবাদ একটি ৫ তলা বাড়ি,

রায়ের বাগ ৩ তলা বাড়ি, মালিবাগ হোসাফ টাওয়ারে দুইটা দোকান কিনেছেন।
বাড়ি ভাড়া ও দোকান ভাড়া থেকে উনার মাসিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকা!

যখন জিজ্ঞেস করলাম, “দর্জির কাজ করে কত পান?”
উনি হেসে বললেন, “কখনো ৭০, কখনো ৮০, কখনো ৬০-ও হয়, তবে ৬০ হাজার খুব কমই হয়”

তিনি একজন দর্জি……
কিংবা মল চত্বরের ইগলুর #আইসক্রিম বিক্রেতার কথাই ধরিনা কেনো…

আইসক্রিম খেতে গিয়ে জানলাম তার বাড়িও আমার জেলায়, আইসক্রিম বিক্রি করেই তিনি মোহাম্মদপুর ছয় তলা বাড়ি করেছেন, #মাসে লাখ দেড়েক টাকা ভাড়াও আসে.।

এসব মানুষ তারা যাদেরকে উঠতে বসতে আমরা ঘৃণার চোখে দেখি, নিয়মিত ধমকও দেই।

কিন্তু, ২৫ বছর পড়াশুনা করেও তাদের সমান বেতনের চাকরি ম্যানেজ করতে পারিনা।

এসব লোক যেখানে পড়াশুনা না করেই উদ্যোক্তা হয়ে গেছে আমরা সেখানে পড়াশুনা করে অন্যের #গোলামী করার সুযোগও পাইনা।
ট্রাডিশনাল বিজনেসকে ঘৃণা করে ইনোভেটিব কিছু করতে চেয়ে আমাদের অবস্থা এমন হয়েছে যে, আমরা কোন স্টার্টআপই দাঁড় করাতে পারিনা।

দিনশেষে আমাদের চাকরি খুঁজতে হয় আকিজ সাহেব কিংবা কাউছ মিয়ার #জর্দারফার্মে।

আমরা জর্দার ম্যানেজার হয়েই প্রাউড ফিল করি
অথচ এই স্টার্ট আপ গুলো যদি তরুণ শিক্ষিতরা শুরু করতো, দেন??

হাসিব মিয়ার ক্ষমতা নাই ৭০ কেজির উপরে বিক্রি করার…
কিন্তু আমরা পারতাম এমন একশ হাসিব দিয়ে বিজনেসটা বড় করতে।

কিংবা একশত তারিককে ম্যানেজ করতে পারতাম, কারন আমাদের ম্যানেজারিয়াল অ্যাবিলিটি তাদের চেয়ে বেশি ।

আমরা সেটা না করে মাল্টিন্যাশনালে জব করে গাধার মত খেটে হাজার পঞ্চাশেক টাকা পেয়েই খুশি।

আর মাস শেষে দর্জি তারেকের পাঁচতলার বাসা ভাড়া দেওয়ার টাকা নিয়ে ভাবি……

স্বপ্ন দেখুন সাহস করুন শুরু করুন এবং লেগে থাকুন…… সফলতা আসবেই

সেশান ৭৪. কেউ একজন অপেক্ষা করছে আপনার জন্য... খুঁজে নিন।

কেউ একজন কোথাও না কোথাও, কোন এক জায়গায়, হয়তো অন্য কোন প্রান্তে আপনার জন্য ফান্ড নিয়ে, আইডিয়া নিয়ে কিংবা বিশাল ক্রেতা হিসাবে অপেক্ষা করছে… তাঁকে খুঁজে বের করার নিরন্তর সব প্রচেষ্টার নাম নেটওয়ার্কিং।

হয়তো বা এই গ্রুপের কেউ একজন বা তাদের কোন আত্মীয় বা বন্ধু, হয়তো আপনার পাশে চেয়ারের কেউ যার সাথে বাসে, ট্রেনে, প্লেনে বা হেঁটে যেতে আপনি লজ্জায়, ভয়ে বা সংকোচে কথা বলেন নি। হয়তো বা ৮৯ জনের সাথে কথা বলেছেন কিন্তু হতাশ হয়ে বা পাত্তা না পেয়ে ৯০ তম জনের দিকে ফিরে তাকান নি।

অথচ ঐ ৯০ তম জনই হয়তো বা হতে পারে আপনার টারনিং পয়েন্ট, যাকে আপনার দরকার ছিল। সেও হয়তো আপনাকেই খুঁজছিল। তবে সম্পর্ক গুলুকে গেঁথে রাখতে হবে সততা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে, উইন উইন বজায় রেখে। ওটাই হবে আপনাকে মনে রাখার কারণ।

কেউ একজন অপেক্ষা করছে আপনার জন্য… খুঁজতে হবে প্রতিনিয়ত। যুক্ত করতে হবে হাজারো মানুষকে এই বন্ধনে।

সেশান ৭৫. যে কারো সাথে পার্টনার হবার আগে যে বিষয়গুলু নিশ্চিত হয়ে নিবেন

আপনারা হাজার হাজার হবু উদ্যোক্তা একে অন্যের পার্টনার/ইনভেস্টর হতে পারেন। কিন্তু যে কারো সাথে পার্টনার হবার আগে যে বিষয়গুলু নিশ্চিত হয়ে নিবেনঃ

১। একে অন্যকে পার্সোনালি ভিজিট করবেন, বসে মিটিং করবেন, নিজেদের প্লান ও আইডিয়া নিয়ে আলাপ করবেন

২। নিজেদের বাড়ি (এবং অফিস) ভিজিট করবেন

৩। নিজেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করে নিবেন

৪। কতটা কর্মঠ ও কাজের প্রতি সিরিয়াস তা বুঝে নিবেন

৫। পার্টনারশিপ ডিড করে নেবেন ষ্ট্যাম্প পেপারে এবং তা নিবন্ধন করে নিবেন

৬। যার যার শেয়ারের অংশ ও দায়িত্ব লিখিত করে নিবেন ঐ ডিডে।

৭। সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করবেন।

৮। পার্টনার ২ জন বা ততধিক জন হলে কমপক্ষে ২-৩ জন ব্যাংকের চেক সিগনেটরি হবেন।

৯। সবার প্রাথমিক মূলধন ব্যাংকে জমা হবার পর বিজনেসের কাজ শুরু করবেন।

১০। বিজনেস প্লানটা ভালো ভাবে করে নিবেন এবং বিজনেস শুরু করার পর পরবর্তী ১ বছর বা লাভে না আসা পর্যন্ত অফিস চালাতে নগদ টাকার জোগানে যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করে নিবেন।

বিশ্বাস করবেন কিন্তু একটু যাচাই করে।

সেশান ৭৬. ৬ টি অভ্যাস কে কে শুরু করেছেন?

ফান্ডিং আইডিয়া – ডেইলি সেভিংস (যাদের মূলধন এখনো জোগাড় হয় নি)
প্রতিদিন ১০০ বা ২০০ টাকা সেইভ করা কি খুব কঠিন কাজ? যারা পারেন আরও বেশী টাকা সেইভ করা শুরু করুন। কিভাবে সেভিংস করতে পারেনঃ

১। যারা সিগারেট খান, ছেড়ে দিন এটা আপনার জীবনে কোন কিছু যোগ করবে না বিয়োগ ছাড়া। ঐ টাকাটা সেইভ করুন।

২। আমরা জানি অনেকে প্রেম করে গিফট দিয়ে অনেক টাকা নষ্ট করেন, ৫ টা বছর পরিশ্রম করে নিজের ক্যারিয়ারটা একটা শক্ত অবস্থানে দাড় করান, জীবনে প্রেমের অভাব হবে না। প্রেম আপনাকে খুঁজবে। ঐ সময় ও টাকাটা সেইভ করুন।

৩। বন্ধুদের সাথে আড্ডার দরকার আছে, কিন্তু এমন বন্ধুদের সাথে মিশুন যারা আপনার মনের মত ও যারা আপনার জীবনে ভালো কিছু অ্যাড করতে পারবে। বন্ধু নির্বাচন ক্যারিয়ারে অনেক বড় ভুমিকা রাখে। বন্ধুদের সাথে অকারনে আড্ডা দিয়ে খরচ না করে তা সেইভ করতে পারেন।

৪। যতোটুকু দরকার ততটুকু বলুন, অকারনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে কথা না বলে, ঐ সময় ও অর্থটুকু সেইভ করুন।

৫। আগামী এক বছর প্রতিদিন ২-৪ ঘণ্টা সময় বের করে একটা টিউশানি বা পার্ট টাইম জব (রেস্টুরেন্ট, ফার্নিচারের দোকান, আইটি ফার্ম, যে কোন মার্কেটিং, ডেলিভারি সার্ভিস ইত্যাদি) শুরু করুন আজ থেকেই। এই টাকাটা সেইভ করুন।

আমি নিশ্চিত ১ বছরে আপনি ছোট করে শুরু করার মত একটা মূলধন জমিয়ে ফেলতে পারবেন সহজেই। খুব ছোট কিছু শুরু করার জন্য এটা হতে পারে আপনার প্রাথমিক মুল্ধন। এই ছোট ছোট উদ্যোগ থেকে একদিন হবে অনেক বড় একটা প্রতিষ্ঠান।

সেশান ৭৭. কখনো কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করবেন না বা মারবেন না।

আপনি হয়তো রাগে বা উত্তেজনা বশত কাজটা করে ফেললেন কিন্তু যিনি আঘাত প্রাপ্ত তার জন্য এটা যে কতটা কষ্টের!!! শারীরিক কষ্টের চেয়ে মানসিক কষ্টটা অনেক বেশী। সে মরেও যেতে পারত। কাউকে মেরে, পিটিয়ে কি আনন্দ পাওয়া যায়…? যায় না, এটা একটা হিংস্রতা।

এই বিষাক্ত শক্তি তাঁকে ঘুমুতে দিবে না, স্বস্তি দিবে না, দেবে না শান্তি। পেছনে তাকিয়ে দেখুন, কেউ ভালো নেই!

জীবনের এতগুলু বছর পার করলাম, কৈ কোনদিন কাউকে একটা থাপ্পড় দেয়া তো দুরের কথা, গালিও দেইনি। আমার জীবন কি থেমে ছিল, নাকি পাওয়া কম ছিল! আমার কি রাগ নেই, আমি কি অপমানিত হইনি কোনদিন! হয়েছি অনেকবার, শোধও নিয়েছি তবে সময় নিয়ে, সময় দিয়ে – মেধা, যোগ্যতা ও ভালমানুষী দিয়ে।

জীবন অতিবাহিত করার জন্য বা সমস্যার সমাধানের জন্য বা অপমানের প্রতিশোধ নেবার জন্য পিটানো ছাড়াও তো আরও অনেক উপায় আছে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ, বাহাদুরিও বটে।

সেই বাহাদুরি দেখানোর জন্য মাঠে গিয়ে ছক্কা পিটান, ফুটবলে লাথি মেরে গোল করেন একের পর এক, বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেন, গনিত অলিম্পিয়াডে গিয়ে সোনা জিতে আসেন……

ক্লাসে প্রথম হউন, স্কলারশিপ নিয়ে হার্ভার্ডে পড়তে যান, পিএইচডি করেন, বড় উদ্যোক্তা হয়ে হাজার তরুণের বেকারত্ব দূর করুন…পারলে ভালমানুষ হয়ে দেখান!

সবাই আপনাকে মাথায় নিয়ে নাচবে – আর এটাই হল বাহাদুরি দেখানোর জায়গা।

রক্ত নিতে নয়, রক্ত দিতে শিখুন !

সেশান ৭৮. স্বপ্ন দেখুন, সাহস করুন, শুরু করুন এবং "লেগে থাকুন"...... সাফল্য আসবেই - এটা আমার প্রিয় একটা শ্লোগান।

কারো কারো দেখবেন, স্বপ্ন আছে, সাহস আছে, শুরুও করে দেন কিন্তু “লেগে থাকতে” পারে ন। এটা অনেকেরই সমস্যা!

এই সমস্যার মূল কারণ – যেমন ধরুন, আপনি ঠিক করলেন প্রতিদিন ১ ঘণ্টা করে হাঁটবেন বা দৌড়াবেন, শরীরটা ঠিক রাখার জন্য। বিশেষ করে যারা সারাদিন ডেস্কে বসে বসে কাজ করেন, তাদের জন্যতো এটা খুবই জরুরী।

আপনি ঠিক করলেন কাল থেকেই প্রতিদিন ১ ঘণ্টা হাঁটা শুরু করবেনঃ

কাল এল, আচ্ছা আজ থাক, আজ কেডস ত্রাউজার সব কিনবো তারপর কাল থেকে হাঁটা শুরু করবো…

নতুন ত্রাউজার, কেডস পড়ে বেশ উৎসাহ ও মজা নিয়ে হাঁটা শুরু করলেন, প্রথম দিনেই ১ ঘণ্টা হাঁটা কঠিন, তাই আজ ৩০ মিনিট,

কাল থেকে ১০ মিনিট করে বাড়াবো – এটা ভেবে চলে এলেন

আজ একটু বেশী গরম, না থাক কাল হাঁটবো

আজ বৃষ্টি হচ্ছে, না থাক কাল হাঁটবো

আজ আরেকটু ঘুমিয়ে নি, কাল রাত জাগতে হয়েছে, কাল থেকে হাঁটবো

আজ সকালে পারলাম না, একটা জরুরী একটা কাজ আছে, আজ রাতে হাঁটবো

না, আজ একটু বেশী খেয়ে ফেলেছি, কাল থেকে শুরু করবো

এভাবে একদিন কেডস গুলোতে ময়লা জমে যায়, আর হাঁটা হয় না…

অথচ এই কথা গুলো কিন্তু কেউ আপনাকে বলছে না, আপনি নিজেই নিজেকে বলছেন আর একটার পর একটা অজুহাত দাড় করাচ্ছেন।

নিজে নিজেকে বলতে হবে “আজ মানে আজ এবং চলবে”, কোনদিন একেবারে না পারলেও, ১০ মিনিটের জন্য হলেও হাঁটতে হবে – নো এক্সকিউজ!

“কাজটার প্রেমে পড়তে হবে …… কাজটাকে ভালবাসতে হবে।”
তবেই কাজটা করতে আপনি কখনো ক্লান্ত হবেন না।

তখন ঝড়, বৃষ্টি ভুমিকম্প কিছুই আপনাকে থামাতে পারবে না।

সেশান ৭৯. আপনার মন খারাপ? হতেই পারে।

প্রতিটা দিন মন ভালো থাকবে এমনটা অসম্ভব এবং অবাস্তব। কিন্তু মন খারাপটা সংক্রামক ব্যাধির মতো। একবার হলে তা আমরা পুষতে পছন্দ করি মনের অজান্তে, দূর করতে চাই না।

ছুটি বাড়ানোর মত মন খারাপের দিনও বাড়তে থাকে। আমরা মন খারাপ দাম দিয়ে কিনতেও পছন্দ করি। অকারণে ও সামান্য কারণেও মন খারাপ হয় আমাদের।

মন খারাপ হলে যেটা করতে হবে, মন খারাপের ডিউরেসানটা কমাতে হবে।

মন খারাপ হলে নিজেকে কয়েকটা প্রশ্ন করবেনঃ
আমার কেন মন খারাপ?
কারণটা কি?
কার জন্য মন খারাপ?
তার গুরুত্ব আমার জীবনে কতটুকু?

এইখানেই কিন্তু ৫০% মন খারাপের ফুল স্টপ দেয়া যায়।

তারপর আরও কিছু প্রশ্ন নিজে করতে পারেনঃ
এই মন খারাপের জন্য আমি কত টুকু দায়ী?
মন খারাপ হলে শরীরও খারাপ করতে পারে, আমি কি এটা হতে দিব?
মন খারাপ হলে কোন কাজ করা যায় না, আমি কি ১টি দিন হারাবো?

মন ভালো করার জন্য কি কি করা যেতে পারে? সিধান্তটা কে নিবে? আপনি।

জীবনের সব চেয়ে খারাপ সময়/দিনটার সাথে তুলনা করুন।
বিষয়টা যদি এর চেয়েও ভয়াবহ হয়, কয়েক দিন মন খারাপ করে থাকাই ভাল।

আপনার জীবনে তেমন গুরুত্ব বহন করে না, তাদের কারণে মন খারাপ হলে তাদের থেকে দূরে থাকুন। কারণ সে আপনার জীবনে কোন স্মাইল দিতে পারবে না।

প্রিয় কোন গান শুনুন, মজার কোন সিনেমা বা নাটক দেখুন বা বই পড়ুন বা বেড়াতে যান। আপনার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু সাথে কথা বলুন বা সময় কাটান।

এগিয়ে যেতে হলে আপনার মনটা ভালো থাকা খুবই জরুরী।

আজকের জন্য ভালো থাকুন, আগামীকালটা আরও ভালো যাবে।

সেশান ৮০. আপনি, কি হতে চান? চাকুরীজীবী না উদ্যোক্তা?

একটা সময় ছিল, যখন মানবজাতি সভ্য হয়ে ওঠেনি। বাড়িঘর-দালানকোঠা তখনও গড়ে ওঠেনি। আমরা বাস করতাম গুহায়। জীবনধারণের জন্য আমাদের ফলমূল সংগ্রহ ও শিকার করতে হত। আমরা পরনির্ভরশীল ছিলাম না, হবার সুযোগও ছিল না। তখন আমরা সবাই ছিলাম উদ্যোক্তা।

সভ্যতা যত এগোতে থাকলো, আমাদের মধ্যকার উদ্যোক্তা কোয়ালিটি গুলো লোপ পেতে থাকলো। আমরা নিরাপদ জীবন বেছে নিলাম। আমরা অন্যের হয়ে কাজ করা শুরু করলাম। অন্যের স্বপ্নের পূরণে নিজেদের উত্সর্গ করতে থাকলাম। আমরা হয়ে গেলাম চাকুরিজীবী।

আপনি, কি হতে চান? চাকুরীজীবী না উদ্যোক্তা?

চাকরী করবো না, চাকরী দেবো – এ শ্লোগান নিয়ে আমাদের কাজ হবে আপনার মনে, স্বপ্নের আলো জ্বালিয়ে দেয়া।

দেশে লাখ লাখ শিক্ষার্থী প্রতি বছর পাশ করে বের হচ্ছে, এত চাকরী কোথায় পাবে? মানুষ ক’দিন বাঁচে…কিন্তু বেঁচে থাকে তার কর্ম, হউক না ছোট কিছু……

সবাই হয়তো উদ্যোক্তা হবেন না বা হতে পারবেন না, কিন্তু যারা আলোটা একটু বড় দেখতে পাবেন এবং নিজেকে জাগিয়ে তুলতে পারবেন, তাঁদেরকে কেউ আটকাতে পারবে না।

১০টা বা ২০টা পরিবারের কর্মসংস্থানও যদি আপনি করতে পারেন, আপনি ভালো থাকবেন, ওই পরিবারগুলু ভালো থাকবে, দেশের জন্যও কিছু করা হল।