About Us

প্রত্যেক মানুষের জীবনে সাকসেসের পিছনে একটা টার্নিং পয়েন্ট থাকে, একটা ছোট গল্প থাকে। আমি আমার জীবনেও একসময় অনেকেই মনে করতো আমাকে দিয়ে কিছু হবে না! অনেক কষ্ট পেতাম, নিজেকে আয়নায় দেখে মনে হতো এটা তো আমি নই। ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন ছিল, চান্স পাইনি। তারপর মাস্টার্স ও সিএ পড়লাম, এরপর এমবিএ। ক্যারিয়ার শুরু করলাম হিসাব বিভাগে, ভালো লাগলো না, তারপর মার্কেটিং অবশেষে উদ্যোগতা। গ্রামীণ সাইবারনেটে আমার জীবনের প্রথম চাকুরী। চাকুরীর ৩ মাস বয়সে আমি বিয়ে করে ফেলি। গ্রামীণ সাইবারনেটে চাকুরী না করলে ইন্টারনেট তথা তথ্য প্রযুক্তিটা ভালো করে শিখা হতো না বা প্রযুক্তির প্রতি একটা ভালবাসা তৈরি হতো না । গ্রামীণ সাইবারনেটে আমি ছিলাম একাউন্টস ম্যানেজার হিসেবে।

মাথার মধ্যে একটা স্বপ্ন সব সময়ে তাড়া করতো, নিজের একটা কোম্পানি থাকতে হবে, সেখানে অনেক মানুষ কাজ করবে। ৫ বন্ধু মিলে এরকম একটা স্বপ্নের বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ আর চাকরী ছাড়তে রাজি না হওয়ায়, তা শুধু স্বপ্নই রয়ে গেল। গ্রামীণ সাইবারনেটে জব না করলে অপটিম্যাক্স কমিউনিকেসন লিমিটেড হতো না । গ্রামীণ সাইবারনেট না ছাড়লে অপটিম্যাক্স হতো না, তাহলে হয়তো গ্রামীণ সাইবারনেটেই বা অন্য কোথাও জব করতে হতো । তারপর গেলাম গ্রামীণ শক্তিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার হিসাবে । গ্রামীণ শক্তিতে না গেলে অপটিম্যাক্স হতো না কারণ ওখানে গিয়ে স্বপ্ন সত্যি করার কাজ শুরু করি। তারপর আর থামতে হয়নি ।

তারপর শুরু হল অপটিম্যাক্স এর যাত্রা । কিন্তু যাত্রাটা অতটা শুভ ছিল না। ১৮ মাসের মাথায় কোম্পানি বন্ধ হবার উপক্রম হল। তারপর নেমে পরি চ্যালেঞ্জ নিয়ে ও অস্বাভাবিক পরিশ্রম করে ও মেধা খাঁটিয়ে আবার হাটি হাটি পা পা করে পরবর্তী ২-৫ বছরে ঘুরে দাঁড়ালাম। মাঝখানে কিছুদিন সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড এ জব করেছি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে । উদ্দেশ্য ছিল মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব এর স্বাদ নেয়া ও কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডের কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করা। এটা ছিল অপটিম্যাক্স এর শুরুর দিকে। তখন আমি সিঙ্গার বাংলাদেশ এ জব ও অপটিম্যাক্সের কাজ দুটাই একসাথে করতাম।

প্রতিদিন গড়ে ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করতাম, এখনো তাই করি। সিঙ্গার বাংলাদেশের জবে আমার অভিজ্ঞতা অপটিম্যাক্সের গ্রোথে অনেক বেশী সাহায্য করেছে। মাঝখানে আরও একটা কোম্পানি তৈরি করেছিলাম, অতিমাত্রায় আয় রোজগারের সম্ভবনা দেখা দেয়ায়, দ্রুত ঐ কোম্পানি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেই, কারণ সবসময় সৎ থাকতে বাবা শিখিয়েছেন। বুক ফুলিয়ে চলার আশায় ভালোমানুষ হবার লোভটা সবসময় জাগিয়ে রেখেছি।

বেশ কয়েকবার দেশের বাইরে সেটেল হবার সুযোগ থাকলেও যাইনি। কারণ আমার দেশে থাকতেই বেশী ভালো লাগে কিউট যতসব সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে। একদিন ফুড়ুৎ করে মরে যাবো – মনে রাখার মতো কিছু একটা তো করা দরকার। জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছিলাম চাকরী করবো না, চাকরী সৃষ্টি করবো। জীবনে সফলতা মানে শুধু বাড়ি, গাড়ী ও টাকা নয়, সফলতা মানে সুশিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সম্পদ আর একজন ভালোমানুষ। আজ আমি ১৫০ টি পরিবারের হাসি মুখ প্রতিদিন দেখতে পাই – এটাই আমার কাছে সফলতা। আমার উদ্যোগগুলোর সর্বশেষ সংযোজন আলাদীন ডট  কম। প্রযুক্তির মাধমে একটু অন্যরকম সেবা দেয়ার প্রত্যয়।

আমার কাছে এখন নতুন কিছু করা মানে নিজের সাথে আরও কিছু মানুষকে স্বপ্ন দেখানো। নিজে স্বপ্ন দেখি ও তরুণদের স্বপ্ন দেখাই – এটা আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা যা আমি কোন প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়া করি এবং অনেক সময় দেই। গত ২ বছরে প্রায় ২৫ জন তরুণের মাঝে এই স্বপ্ন ছড়িয়ে দিতে পেরেছি – এটাই বিশাল প্রাপ্তি। তারা এখন অন্যকে চাকরী দিচ্ছে। এই স্বপ্ন এখন আরও অনেক বড় হয়েছে। এখন ৬০০০ এর ও বেশী তরুণ তরুণীদের নিয়ে কাজ করছি – তাঁরা একদিন ৫০,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করবে। আর নিউজ প্রেজেনটেশান ও বিজনেস প্রোগ্রাম উপস্থাপনা, ওগুলো শখ করে করা। এসএসসি পাশ করেই চামেলি আমার জীবনে চলে আসে, আমাদের বিবাহ হয়। তারপর তার এইসএসসি, গ্রাজুয়েশান, মাস্টার্স, ফ্যাশন ডিজাইনিং, আবার এমবিএ করে আমার পাশে পাশে থেকেই। এখন সে একটা অফিসের সিইও আর এটিএন বাংলা টিভি নিউজ প্রেজেনটার। আমার বউ – চামেলি আমার জীবনে না এলে এবং ওর সহযোগিতা না পেলে আমার জীবনে কিছুই হতো না।

সিঙ্গার বাংলাদেশে যোগ দেয়ার ৬ মাসের মাথায় ও অপটিম্যাক্সের শুরুর দিকের মারাত্মক ক্রাইসিসের সময় আমার প্রাণ প্রিয় বাবা মারা গেলেন । আমার চারিদিকে যেন শুধু অন্ধকার । তারপর থেকে আমার মা আমার কাছে । এই ২জন মানুষের দোয়া আমার জীবনের সব সফলতার চাবিকাঠি । জীবনের প্রায় সকল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণী পেলেও ক্যারিয়ার, পরিবার, আত্মীয় পরিজন ও বন্ধু বান্ধব ও নিজের কাছে প্রথম শ্রেণীতে থাকাটা কখনো হাত ছাড়া করিনি। সর্বোপরি সফলতা মানে খুশি থাকা।
“নিজের বলার মত একটা গল্প” তরুণ-তরুণীদের জীবন গঠন ও উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার একটি সামাজিক প্লাটফর্ম। ২০১৮ সালের জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে “নিজের বলার মত একটা গল্প” এর যাত্রা শুরু হয়। এই উদ্যোগের মূল দায়িত্ব পালন করেন এর প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল বাহার। বিভিন্ন নলেজ ইনিশিয়েটিভ প্রোগ্রামে গিয়ে আমরা স্বপ্নের কথা বলি, তরুণদেরকে স্বপ্ন দেখাই। এবার তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পালা। উদ্যোক্তা হওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের লক্ষ্য আগামী ২ বছরের মধ্যে ৫০,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা।
৩ টি কারণে উদ্যোক্তা তৈরির এই উদ্যোগটি অনন্য, ব্যতিক্রম ও বাংলাদেশে এই প্রথম:
১। সারা বাংলাদেশ অর্থাৎ ৬৪ জেলা থেকে ৬০০০ জনের অংশ গ্রহণ (মফস্বলকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে)
২। টানা ৯০ দিনের অনলাইনে অংশগ্রহণ মুলক কর্মশালা (প্রতি শুক্র ও শনিবার সহ) এবং
৩। এই পুরো কার্যক্রমটি হয়েছে বিনামূল্যে অর্থাৎ প্রশিক্ষণার্থীদের থেকে কোন ফি ছাড়া।

বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ৬০০০ জন তরুণ ও তরুণীকে নিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির টানা ৯০ দিন ব্যাপী কর্মশালা “নিজের বলার মত একটা গল্প”
১। যারা স্বপ্ন দেখেন নিজে কিছু একটা করতে চান, পরিশ্রম করতে চান, যাদের কোন তাড়াহুড়া নাই ও নিজের জীবনটাকে বদলে দিতে চান – আমরা শুধুমাত্র তাদেরকে নিয়ে কাজ করছি।
২। আমাদের সাথে কাজ শেখার জন্য সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হল – আপনি একজন ভালোমানুষ।
৩। পুরো কার্যক্রমটা হচ্ছে অনলইনে প্রতিদিন – ৬৪ জেলা থেকে সবাই অনলাইনে অংশ গ্রহণ করছে।
৪। প্রতিদিন ১ টা করে পোস্ট বা ভিডিও বা নির্দেশনা বা হোমওয়ার্ক দেয়া হচ্ছে আমাদের ক্লোজড গ্রুপে।
৫। এটি হল ৬০ দিনের অনলাইনে ও সরাসরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। প্রত্যেককে আলাদা আলাদা ভাবে ও গ্রুপে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।
৬। ফেসবুক লাইভে সপ্তাহে ২ দিন করে গ্রুমিং করা হচ্ছে।
৭। পুরো প্রকল্পটি করা হচ্ছে “বিনা ফি” তে অর্থাৎ প্রশিক্ষণার্থীদের থেকে কোন টাকা দেয়া লাগছে না – যেহেতু এটা আমার সামাজিক কাজের অংশ।
এই ৬০ দিনের কর্মশালা শেষে, এই গ্রুপটা আমি এই ৬০০০ জনের জন্য ছেড়ে দিবো। তাঁরা তাদের প্রোডাক্ট এখানে ডিসপ্লে করবে, একে অন্যের ক্রেতা/বিক্রেতা হবে। এই গ্রুপটাকে নিয়ে আমি আগামী ২ বছর পরিচর্যা করবো।
যদি আমরা ৫০০-১০০০ জন উদ্যোক্তাও তৈরি করতে পারি, তবে আগামী ২ বছরের মধ্যে কমপক্ষে ৫০,০০০ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে – এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে!
তবে এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি ৬০ দিন পর আপনাদের এই ৬০০০ জনের সবার নিজের প্রতি বিশ্বাস, সাহস ও স্বপ্ন ভিন্ন মাত্রা পাবে এবং শুরু হবে বদলে যাওয়া একজন আপনি।

বিজনেস আপনার মুল্ধন আপনার, আমরা আপনাকে স্বপ্ন দেখাব ও কৌশল শিখিয়ে দিব।

চাকরী করবো না চাকরী দেব – BE UR BOSS

জীবনে বলার মত একটা গল্প থাকা দরকার।

Unique Vision 24kenakata